বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৫২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
জলদসঞ্চয় ও বারিপতন।
৪১

সকল সামগ্রীই অদ্ভুত। মেঘ-সমাগমও অপূর্ব্ব। মেঘ সর্ব্বদা নাচিয়া নাচিয়া বেড়াইতেছে; কখন উর্দ্ধে, কখন পদতলে বিচরণ করিতেছে; কখন বা গৃহ প্রবেশপূর্ব্বক গাত্র স্পর্শ করিতেছে। মেঘের লীলা অত্যাশ্চর্য। এক দিবস চিন্তাকুলহৃদয়ে বারান্দায় বসিয়াছিলাম, দেখিলাম—পদতলে মেঘ-সমাগম হইয়াছে, বৃষ্টি পড়িতেছে, এবং মধ্যে মধ্যে বিদ্যুদালোকে দিঙ্মণ্ডল উদ্ভাসিত হইতেছে। মনে নানাপ্রকার ভাবের উদয় হইল। ভাবিলাম, আমি ইন্দ্রজিৎ মেঘনাদ, জীমূতবাহনে পরিভ্রমণ করিতেছি। পর্ব্বত-গহ্বরে বৃক্ষাদির অস্পষ্ট কৃষ্ণবর্ণ আকার দৃষ্টি করিয়া মনে করিলাম, নিম্নে ধরা-পৃষ্ঠে রামচন্দ্রের বানর ও ভল্লূকের কটক কলরব করিতেছে। ক্রোধে কম্পিত-কলেবর হইয়া বাণবর্ষণমানসে হস্ত প্রসারণ করিলাম। তখন বুঝিলাম, আমি ইন্দ্রজিং মেঘনাদ নহি। কিন্তু একবারে ভ্রম দূর হইল না; মনে করিলাম, বুঝি ধার্ম্মিকবর যুধিষ্ঠির হইব; নতুবা এ স্বর্গ-রাজ্যে কিরূপে আরোহণ করিলাম? সামান্য মনুষ্য ত এখানে আসিতে পারে না। নির্ঝরজল-পতনের মধুর কল কল ধ্বনি কর্ণ-গোচর হইল; ভাবিলাম এই যে, স্বর্গদ্বারে উপনীত হইয়াছি, দেবগণ