বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৫৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪২
দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র।

আমার আগমনে প্রীত হইয়া মঙ্গলধ্বনি করিতেছেন, অদূরে স্বর্গ-সঙ্গীত হইতেছে। আমি কল্পনা-পৃষ্ঠে আরোহণ করিয়া ইহ জগৎ অতিক্রম করত জগদন্তরে পরিভ্রমণ করিতেছিলাম, মণিমুক্তাখচিত সিংহাসনারূঢ় দেবরাজ সহস্রলোচন ও তৎপার্শ্বাসীনা অতুল-রূপ— যৌবন-সম্পন্না শচী দেবীর রূপ-মাধুরী দর্শন করিতেছিলাম, দেব-সভাধিষ্ঠিত দেব-গুরু বৃহস্পতির কণ্ঠনিঃসৃত মঙ্গল-গাথা শ্রবণ করিতেছিলাম, নন্দন-কাননের মনোহর প্রসূনরাজির মুগ্ধকর গন্ধের আঘ্রাণ লইতেছিলাম, হঠাৎ আমার গুণবতী সহধর্ম্মিণীর প্রেমময় সম্ভাষণ শুনিতে পাইলাম। তিনি বলিলেন, “দেখ! দেখ! মেঘের কি অপরূপ মাধুরী! অনবরত বৃষ্টি হইতেছে বলিয়া বিরক্ত হইও না, যাহার চক্ষু আছে, সে সকল বস্তুতেই ঈশ্বরের মূর্তি দেখিতে পায়।” এই কথা শুনিয়া আমার হৃদয় জ্ঞানালোকে উদ্দীপ্ত হইল, অন্তশ্চক্ষু প্রস্ফুটিত হইল; ভক্তিভাবে বলিলাম “ধন্য জগৎপতি! অসীম তোমার মহিমা, অচিন্ত্য তোমার শক্তি, অপূর্ব্ব তোমার সৃষ্টি! মূঢ় সে, যে বলে এই অসীম-শোভা-সম্পন্ন জগতের সর্ব্ব শক্তিমান্ স্রষ্টা নাই, নির্জীব জড়ের যোজনায় ইহার