উৎপত্তি হইয়াছে। মূঢ় সে, এই অদ্ভুত অদ্ভুত কার্য্য-কলাপ দেখিয়া যাহার প্রতীতি না হয় যে, এই জগৎ-কৌশলের অসীম-গুণ-সম্পন্ন মঙ্গলময় কারণ বর্ত্তমান আছেন। অন্ধ সে, যে প্রতি পুষ্পে, প্রতি বৃক্ষে, প্রতি লতায়, প্রতি বনস্পতিতে, এক সর্ব্বমূলাধার পরম পুরুষের সত্তা উপলব্ধি না করে। অন্ধ সে, যে এই অপূর্ব্ব বিদ্যুদালোকে সেই নিষ্কলঙ্ক অতুল জ্যোতির্ম্ময় পুরুষের বিমল জ্যোতি দেখিতে না পায়। বধির সে, যে নির্ঝরের কল কল ধ্বনিতে ঈশ্বর-গুণ-গান শ্রবণ না করে। বধির সে, যে এই মেঘগর্জ্জনে পরম দয়ালু জগৎপিতার মধুর সম্ভাষণ শুনিতে না পায়। মুগ্ধ হইলাম, বিহ্বল হইলাম, জ্ঞান-চৈতন্য-রহিত হইলাম, ক্ষণকালের জন্য সেই অমৃত প্রেমময়ে নিলীন হইলাম। জ্ঞান-লাভান্তে দেখিলাম, হৃদয় পরিতৃপ্ত হইয়াছে, প্রেমে ডগমগ করিতেছে; বিহ্বলাবস্থায় যে বিমলানন্দ উপভোগ করিয়াছিলাম, তখন তাহার অতুলনীয় মধুরত্বের পরিচয় পাইলাম। তখন বুঝিলাম, কি কারণে বুদ্ধদেব নির্ব্বাণ-মুক্তি-লালসায় কঠোর ব্রত অবলম্বন করিয়াছিলেন; তখন বুঝিলাম, নির্ব্বাণই জীবের পরা গতি, নির্ব্বাণই জীবাত্মার পরা মুক্তি।
পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৫৪
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
জলদসঞ্চয় ও বারিপতন।
৪৩