বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৫৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪৪
দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র।

বুদ্ধধর্ম্মোক্ত নির্ব্বাণ।

 বুদ্ধদেবোক্ত নির্ব্বাণ শব্দের প্রকৃত অর্থ দার্শনিক পণ্ডিতগণ বুঝিতে পারেন নাই। জীবাত্মার নিধনকে মনুষ্যের পরা গতি ভাবিয়া বুদ্ধদেব সাংসারিক সুখৈশ্বর্য্য বিসর্জ্জন দিয়া ধর্ম্মপ্রচারে প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন, এ কথা কখনই বিশ্বাস্য নহে। নিধন-প্রাপ্তির জন্য কঠোর-ব্রতাবলম্বনের প্রয়োজন কি? ধর্ম্মানুষ্ঠানের আবশ্যকতা কি? দার্শনিকগণ বুদ্ধদেবের প্রগাঢ় ভাব-রহস্য-ভেদে অক্ষম হইয়াই তাঁহার মত অসার ও ভ্রমময় বলিয়া বিদ্রূপ করিয়াছেন, তাঁহাকে নাস্তিক আখ্যা প্রদান করিয়াছেন। বুদ্ধদেব নাস্তিক ছিলেন না, তিনি পরম ভক্ত ছিলেন। তিনি বিশুদ্ধ-জ্ঞাননেত্রে সেই সত্যস্বরূপ, জ্ঞানস্বরূপ অনন্তস্বরূপ ব্রহ্মকে দর্শন করিয়াছিলেন। অধ্যাত্ম-যোগ-বলে জীবাত্মাকে পরমাত্মাতে সংযুক্ত করিয়াছিলেন; বুঝিয়াছিলেন যে, পরিমিত পদার্থে, অপূর্ণ স্বভাবে প্রেম-স্থাপন অজ্ঞান জীবের কার্য্য। তাঁহার সকল কামনার পরিসমাপ্তি হইয়াছিল, পরব্রহ্মে তাঁহার সম্পূর্ণ অনুরাগ জন্মিয়াছিল। তিনি জীবাত্মার পার্থক্য