বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৬২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বুদ্ধধর্ম্মোক্ত নির্ব্বাণ।
৫১

বাক্য অপরিবর্ত্তনীয়। তিনি ‘একমেবাদ্বিতীয়ং’ ও সর্ব্বব্যাপী। তিনি বুদ্ধদিগের স্রষ্টা। তিনি প্রজ্ঞা ও জগতের স্রষ্টা, তিনি স্বয়ম্ভূ। তাঁহার ধ্যান হইতে তিনি এই জগৎ সৃষ্টি করিয়াছেন। তিনি ঈশ্বর, তিনি অনন্ত; যে সমস্ত পদার্থ এখনও আকারশূন্য, তিনিই তাহাদের আকার।” ‘কারগু-ব্যূহ’ ও ‘নাম-সঙ্গীতি’ নামক দুইখানি বৌদ্ধধর্ম্ম-সম্বন্ধীয় অতি প্রাচীন গ্রন্থে এই প্রকার অনেক উক্তি আছে।

 আপনার সহিত মকদ্দমা মামলার কথোপকথন উপলক্ষে আমি বিশেষ পরিচয় পাইয়াছি যে, আপনি প্রমাণ আলোচনায় বিলক্ষণ পটু। তজ্জন্য অধিক বচনোদ্ধার নিস্প্রয়োজন মনে করি। যাহা বলা হইল, তাহাতেই আপনি বুঝিবেন যে, বুদ্ধদেব নিরীশ্বরবাদী ছিলেন না। ইয়ুরোপীয় দার্শনিকগণ বৌদ্ধধর্ম্মের নিগূঢ় তত্ত্বের প্রকৃত অর্থ গ্রহণ করিতে সমর্থ নহেন। তাঁহাদের রীতি-নীতি, ধর্ম্মশিক্ষা, চিন্তা প্রণালী ও সমালোচনা-রীতি অনুসারে তাঁহারা এ কার্য্যের অনুপযুক্ত হইয়াছেন। অনেকে বলেন যে, লঙ্কাদ্বীপ-নিবাসী বৌদ্ধগণ নিরীশ্বরবাদী; সম্ভবতঃ এ কথাটী সত্য। “যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাক্ষস”; এই রাক্ষস-