১। জগৎসংসারকে অনিত্য ও অপূর্ণ জ্ঞান।—সকল পদার্থই ক্ষণিক, দুঃখময়, স্বলক্ষণাক্রান্ত এবং শূন্য। মেঘশ্রেণীর ন্যায় কোন পদার্থই চিরস্থায়ী নহে; সুতরাং সংসার সকলের পক্ষেই দুঃখকর। জীবলোকে দুঃখ ও যন্ত্রণা সর্ব্বত্র ব্যাপী। যে এই অকিঞ্চিৎকর পদার্থের প্রকৃত তত্ত্ব মনে ধারণা করিতে অশক্ত, তৎপ্রতি তাহার ঘৃণার উদ্রেক হয় না। যাহাদের সংসারের অনিত্যতা-জ্ঞান নাই, তাহারা বহির্ব্বিষয়ে আসক্ত হইয়া স্বীয় প্রবৃত্তির দাসত্ব করে এবং বিস্তীর্ণ মৃত্যু-পাশে আবদ্ধ হয়। এশ্রেণীর ব্যক্তি চিত্তসংযমে অক্ষম। কিন্তু যখন জীব বুঝিতে পারে যে, পৃথিবী জলবুদ্বুদ ও মরীচিকা সদৃশ, তখন সে ইহাকে তুচ্ছ জ্ঞান করে, তখন বহির্ব্বিষয়ের প্রতি তাহার স্নেহ, মমতা ও কামনা থাকে না, সে দ্বিতীয় সোপানে পদার্পণ করিবার উপযোগিতা লাভ করে। এই জন্যই বুদ্ধদেব নিজ শিষ্যদিগকে সংসারের অনিত্যতা ও অসারতা সম্যক্প্রকারে বুঝাইবার যত্ন করিয়াছিলেন।
২। চিত্তবৃত্তির নিরোধ বা যোগ।—পাতঞ্জল দর্শনে যোগের বিষয় সম্যগ্রূপে ব্যাখ্যাত হইয়াছে।