মহর্ষি পতঞ্জলি বলেন, “যোগশ্চিত্তবৃত্তিনিরোধঃ”; চিত্তবৃত্তি-নিরোধের নাম যোগ। চিত্তবৃত্তির নানারূপ অবস্থা হয়। রজোগুণের উদ্রেক হইয়া চিত্তের যে অবস্থা হয়, তাহার নাম ক্ষিপ্তাবস্থা। এই অবস্থায় বাহ্যবস্তুর প্রতি আসক্তি জন্মায় এবং তজ্জনিত সুখদুঃখাদির উৎপত্তি হয়। তমোগুণের উদ্রেক হইলে কার্য্যাকার্য-বিবেচনা-শক্তি রহিত হয়; এই অবস্থাকে মুঢ়াবস্থা বলে। সত্ত্বগুণের উদ্রেক-হেতু চিত্ত দুঃখসাধন সাধুবিগর্হিত কর্ম্ম পরিত্যাগ করিয়া সুখসাধনীভূত সজ্জন-সেবিত আত্মোৎকর্ষজনক ব্রতাদি কার্য্যে অনুরক্ত হয়। এই অবস্থা চিত্তের বিক্ষিপ্তাবস্থা বলিয়া বর্ণিত হইয়াছে। এই ত্রিবিধ অবস্থাই সমাধি বা যোগের অনুপযোগী। কিন্তু একাগ্র ও নিরুদ্ধ অবস্থাদ্বয় সমাধির বিশেষ উপযোগি। ঈশ্বরবিষয়ে চিত্তের একাগ্রতা হইলে পর নিরোধাবস্থার উৎপত্তি হয়। মহর্ষি পতঞ্জলি চিত্তবৃত্তির ব্যাখ্যা করত তাহার নিরোধের উপায় বলিয়াছেন। তিনি বলেন যে, অভ্যাস ও বৈরাগ্য দ্বারা চিত্তবৃত্তির নিরোধ সাধিত হয়। বৈরাগ্য বিষয়-বৈমুখ্য উৎপাদন করে; বৈরাগ্যই দৃষ্ট ও আনুশ্রবিক বিষয়ে মনের বিতৃষ্ণা
পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৬৫
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫৪
দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র।