বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৬৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
‘নির্ব্বাণ’ শব্দের ব্যাখ্যা।
৫৫

জন্মায় এবং বুদ্ধিকে আপন বশীভূত করে। যাহার প্রকৃত বৈরাগ্যের উৎপত্তি হয়, তাহার চিত্তে কোনরূপ বৃত্তির সঞ্চার হয় না অর্থাৎ তাহার চিত্তবৃত্তি সকল নিরুদ্ধ হয়। এই কথাগুলি স্মরণ রাখিয়া বুদ্ধদেবের জীবন-বৃত্তান্ত ও উপদেশ বাক্য আলোচনা করুন, বুঝিবেন যে, তিনি পরম যোগী ছিলেন, তিনি চিত্তবৃত্তির নিরোধ-সাধন-মানসে কঠোর তপস্যা করিয়া সিদ্ধকাম হইয়াছিলেন।

 আপনার অবিদিত নাই যে, কপিলাবস্তু নগরের রাজা শুদ্ধোদনের ঔরসে এবং কলিনগরাধিপতি অঞ্জনদেবের দুহিতা মহামায়ার গর্ভে, খৃঃ অব্দের ৫০০ বৎসর পূর্ব্বে, বুদ্ধদেবের জন্ম হয়। তাঁহার নাম প্রথমতঃ সিদ্ধার্থ ছিল। পরে সিদ্ধ হইয়া তিনি বুদ্ধ নাম প্রাপ্ত হন। তাঁহার অপর দুইটী নাম ছিল, শাক্য মুনি ও গৌতম। যে প্রাভাতিক মঙ্গলগাথা শ্রবণ করিয়া সিদ্ধার্থের মনে বৈরাগ্যের উদয় হয়, যাহার প্রভাবে তিনি মায়ার দুশ্ছেদ্য জাল ছেদন করেন, প্রাণাধিকা ভার্য্যা ও প্রাণাপেক্ষা প্রিয়তম পুত্র এবং অতুল রাজ্যসুখ পরিত্যাগ করিয়া ছিন্নবস্ত্র পরিধান-পূর্ব্বক পরম পুরুষার্থ-সাধন-কামনায় বন প্রবেশ করেন,