একবার সেই গাথাটী স্মরণ করুন, তাহা হইলেই বুঝিতে পারিবেন, কিজন্য তিনি সংসার ত্যাগ করিয়াছিলেন। গাথাটীর কিয়দংশ নিম্নে উদ্ধৃত করিলাম। “এই ত্রিভুবন জরা, ব্যাধি ও দুঃখে প্রজ্বলিত, মরণাগ্নিতে প্রদীপ্ত ও অনাথ। কুম্ভগত ভ্রমরের ন্যায় মুঢ় জগৎ কোনমতেই ইহার হস্ত হইতে রক্ষা পাইতেছে না। এই ত্রিভুবন শারদীয় অভ্রসম অনিত্য। এই জগতে জন্মমৃত্যু রঙ্গশালার নটসদৃশ। বেগবতী গিরিনদী-সম দ্রুতগামি মানব-জীবন আকাশস্থ বিদ্যুতের ন্যায় চলিয়া যাইতেছে। ভূলোকে ও দ্যুলোকে ভবতৃষ্ণার্ত্ত ও অজ্ঞানবশ জনগণ বিমূঢ়চিত্ত হইয়া কুম্ভকারের চক্রের ন্যায় সর্ব্বদা ঘুরিতেছে। মৃগ যেমন প্রলুব্ধ হইয়া ব্যাধের জালে জড়িত হয়, সেইরূপ এই জগতীস্থ মানববৃন্দ সুন্দর রূপ, স্নিগ্ধ শব্দ, মনোহর গন্ধ, রস ও স্পর্শ-সুখে মোহিত হইয়া পাশবদ্ধ হইয়াছে। মৃত্যু পরম বৈরী ও ভয়ের কারণ, বাসনা বহু শোক ও উপদ্রবের মূল, ভোগ্যবস্তুসকল অসিধারসম বিষযন্ত্রনিভ, অতএব ইহা পরিত্যাগ কর। বাসনা-স্মৃতি শোককর, অজ্ঞানকারী, ভয়হেতু, দুঃখমূল, ভবতৃষ্ণালতার আশ্রয়।... জ্ঞানিগণ ইহাকে মিথ্যা-পরিকল্পনা-
পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৬৭
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫৬
দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র।