বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৬৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
‘নির্ব্বাণ’ শব্দের ব্যাখ্যা।
৫৭

সমুত্থিত বলিয়া জানেন।...বহু-রোগ ও ধন-ব্যাধি-দুঃখে এই জগৎ সর্ব্বদা জ্বলিতেছে; অতএব হে মুনে! এই জগৎ জরাব্যাধিগত দেখিয়া শীঘ্র ইহার দুঃখ-নিষ্কৃতির উপদেশ দাও।...নদীস্রোতে পতিত বৃক্ষের যেমন পত্র-ফল বিচ্ছিন্ন হইয়া যায়, সেইরূপ এই ভবসংসারে প্রিয় বস্তু ও প্রিয় জনের সহিত সর্ব্বদা বিচ্ছেদ হইতেছে, আর কাহারও সহিত পুনরায় মিলন হয় না, কেহ পুনরায় আগমন করে না; সকলেরই মরণ হইতেছে, পতন হইতেছে, পতন-কালের ক্রিয়া হইতেছে; মৃত্যু সকলকে বশীভূত করিয়াছে, কিন্তু কেহই মৃত্যুকে বশ করিতে পারে না। নদীস্রোত যেমন দারুখণ্ডকে ভাসাইয়া লইয়া যায়, মৃত্যুও সেইরূপ সকলকে হরণ করে। জলবিহারী মকর যেমন জীবগণকে, গরুড় যেমন উরগকে, মৃগেন্দ্র যেমন গজকে, অগ্নি যেমন তৃণৌষধি ও প্রাণিগণকে গ্রাস করে, মৃত্যুও সেইরূপ শত শত প্রাণীকে কবলস্থ করিতেছে। অতএব তুমি পূর্ব্বে ঈদৃশ বহুদোষ-প্রপীড়িত জগৎকে উদ্ধার করিবার জন্য যে প্রণিধান করিয়াছিলে, তাহা স্মরণ কর, অভিনিষ্ক্রমণ করিবার তোমার এই প্রকৃত সময়।” এই গাথা শুনিয়া যাঁহার মনে বৈরাগ্যের উদয় হয়,