একটুকু ভাবিলেই বুঝিবেন যে, তিনি চিত্তবৃত্তিনিরোধ-জন্য ব্যাকুল হইয়াছিলেন কি না। এই গাথা শ্রবণ করিবার কয়েক দিবস পরে সিদ্ধার্থ একজন শান্তমূর্ত্তি পুরুষকে দেখিয়া নিজ সারথি ছন্দককে জিজ্ঞাসা করেন, “এ ব্যক্তি কে?” সারথি বলে, “এ ব্যক্তি ভিক্ষু। ইনি সংসারের সকল বাসনা পরিত্যাগ করিয়াছেন; ইহাঁর আচরণ সুবিনীত; ইনি প্রব্রজ্যা অবলম্বন করিয়াছেন, সকলকে আপনার তুল্য দর্শন করেন, রাগ দ্বেষ পরাজয় করিয়াছেন, ভিক্ষান্নে জীবন অতিবাহিত করিতেছেন।” এই কথা শুনিয়া গৌতম মনে মনে প্রতিজ্ঞা করিলেন যে, ঐ ভিক্ষুর পথ অবলম্বন করিবেন এবং সংসার ত্যাগ করিয়া মানবকুলকে অধর্ম্ম হইতে উদ্ধার করিবেন। সন্ন্যাসাশ্রম গ্রহণ করিবার সময়ে তাঁহার সারথিকে বলেন যে, “ভোগ-বিলাসে পরিবেষ্টিত থাকিয়াও আমি তাহাতে নির্লিপ্ত আছি। জীবের দুঃখ সহ্য করিতে পারি না, তজ্জন্য সুখৈশ্বর্য্য পরিত্যাগ করিতেছি। এই ভবসমুদ্র নিজে উত্তীর্ণ হইয়া জগৎকে উত্তীর্ণ হইবার পথ প্রদর্শন করিব। নিজে মুক্ত হইয়া চরাচর বিশ্বের যুক্তির পথ অর্গলশূন্য করিব।” সন্ন্যাসী হইয়া
পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৬৯
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫৮
দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র।