তিনি প্রথম ছয় বৎসর কাল কঠোর তপস্যায় নিযুক্ত ছিলেন। কত শীত, কত রৌদ্র, কত বৃষ্টি তাঁহার মস্তকের উপর দিয়া চলিয়া গিয়াছে, তথাপি তাঁহার যোগ-ভঙ্গ হয় নাই। তিনি তপস্যা-প্রভাবে ইন্দ্রিয়বিজয় ও চিত্ত আয়ত্ত করিলেন, পাপেচ্ছার মূলোৎ পাটন হইল, মনের একাগ্রতা সাধিত হইল। ঈশ্বরতত্ত্ব-জ্ঞান-লাভের জন্য মনের যে অবস্থার প্রয়োজন, তাহা তিনি তখন প্রাপ্ত হইলেন, এবং পূর্ব্বোক্ত তৃতীয় সোপানে আরোহণের উপযুক্ত হইলেন। তিনি জানিতেন যে চিত্তসংযম ব্যতিরেকে পরমপুরুষার্থের সাধনা হয় না। এই জন্যই ভিক্ষু নামক উদাসীনসম্প্রদায় প্রবর্ত্তিত করেন, এবং দান, ধ্যান, শীল, তিতিক্ষা, বীর্য্য, প্রজ্ঞা এই কয়েকটা বিষয়ের অনুষ্ঠান করিবার জন্য তাহাদিগকে উপদেশ দেন। তিনি বিলক্ষণ বুঝিয়াছিলেন যে, এই প্রথম ও দ্বিতীয় সৌপান অতিক্রম করা জীবের পক্ষে বিশেষ কষ্টকর, এবং একরূপ অসাধ্য। এই সোপান দুইটী উত্তীর্ণ না হইলে ধর্ম্মের উচ্চাঙ্গ সমুদায় ধারণা-সাধ্য হয় না। এই কারণেই তিনি মনুষ্যকুলকে সংসারের অনিত্যতা ও অসারতা উপলব্ধি করাইবার জন্য যত্ন-
পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৭০
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
‘নির্ব্বাণ’ শব্দের ব্যাখ্যা।
৫৯