বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৭১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৬০
দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র।

শীল হইয়াছিলেন, এবং তদুদ্দেশ্যে শিষ্যদিগকে উপদেশ প্রদান করিতেন। এই কারণেই তিনি চিত্তসংযম জন্য নিজে জীবের অসাধ্য তপস্যায় সমারূঢ় হইয়া দৃষ্টান্ত দ্বারা মনুষ্যকুলকে ইহার অবশ্য-প্রয়োজনীয়তা বুঝাইয়া দিয়াছিলেন, এবং সোপানদ্বয় উত্তীর্ণ হইবার ক্রমোন্নত উপায়-পরম্পরা নির্দ্দেশ করিয়া গিয়াছেন। যে ধর্ম্ম-প্রচারক অনুপযুক্ত ব্যক্তিকে অত্যুচ্চ ধর্ম্মভাব শিক্ষা দিবার চেষ্টা করেন, তিনি মনুষ্য-স্বভাব আদৌ বুঝেন না। বুদ্ধদেব জানিতেন যে মনুষ্য যদি বুঝিতে পারে যে, সংসার যন্ত্রণাময়, স্নেহ-মমতা এই যন্ত্রণার মূল, তজ্জন্য স্নেহ-মমতার ধ্বংস করা নিতান্ত আবশ্যক, তাহা হইলে মনুষ্য চিত্তসংযম করিতে সমর্থ হইবে, এবং তখন নিষ্কলঙ্ক দর্পণে যেমন সকল মূর্ত্তিই প্রতিভাত হয়, তেমনি তাহার হৃদয়ে ধর্ম্মের উচ্চাঙ্গ সকল আপনিই উদিত হইবে। এতজ্জন্যই তাঁহার উপদেশে ঈশ্বর-তত্ত্ব সম্যগ্ররূপে প্রকাশিত হয় নাই। এখন বলুন দেখি, ঈশ্বরজ্ঞানলাভের জন্য সংসারের অনিত্যতা-জ্ঞান ও চিত্তবৃত্তিনিরোধ নিতান্ত আবশ্যক কি না?

 ৩। পরমাত্মাকে নিত্য ও পরিপূর্ণ জ্ঞান।—