বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৭২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
‘নির্ব্বাণ’ শব্দের ব্যাখ্যা।
৬১

ইত্যগ্রে উল্লেখ করিয়াছি যে, বুদ্ধদেব নির্ব্বাণকেই পরম পুরুষার্থ জ্ঞান করিতেন; নিলীন হওয়াকে নির্ব্বাণ বলিতেন। তিনি সংসারকে অনিত্য পদার্থ জ্ঞান করিতেন, এবং সংসার হইতে বিচ্যুতির প্রার্থনা করিতেন। তবে কোন্ বস্তু তাঁহার এরূপ প্রিয় ছিল যে, তাহাতে তিনি নিলীন হইবার লালসা করিতেন? নিধন ত কোনও অস্তিত্ব নহে; অস্তিত্বের বিরহই নিধন। নিধনত্ব, কিরূপে কামনার বিষয় হইবে? বুদ্ধদেব কি এতই অজ্ঞ ছিলেন যে, তিনি এই ভাববিরহকে পরম পুরুষার্থ জ্ঞান করিতেন? এপ্রকার বাক্য ত যুক্তিসঙ্গত বলিয়া বোধ হয় না। তিনি অবশ্যই বিশ্বাস করিতেন যে, সংসার ও জীবাত্মা অপেক্ষা কোন শ্রেষ্ঠতর পদার্থ আছে, তাহা নিত্য ও পরিপূর্ণ; তজ্জন্য বলিতেন যে, তাহাতে লীন হইতে পারিলে জীবের মুক্তি হয়। পরমাত্মাকে তিনি অবশ্যই নিত্য ও পরিপূর্ণ বলিয়া জানিতেন। এ প্রকার জ্ঞান না থাকিলে ঈশ্বরে নিলীন হইবার ইচ্ছার উদয় হইবে কেন? যে পদার্থের অস্তিত্বে বিশ্বাস নাই, যাহাকে পরম পদার্থ বলিয়া জ্ঞান নাই, তাহা লাভের ইচ্ছা, তাহাতে নিলীন হইবার লালসা, মানসিক নিয়মানু