কলঙ্ক ও অভাব বিরহিত। অন্য সকলই অনিত্য, নিত্য পদার্থের ইচ্ছায় তাহাদের উৎপত্তি হইয়াছে, তাঁহার ইচ্ছায় বর্ত্তমান রহিয়াছে, এবং তাঁহার ইচ্ছা হইলেই ঐ সকলের লয় হইবে। যাহার উৎপত্তি আছে, তাহার নিবৃত্তিও আছে। যাহার আদি আছে, তাহার অন্তও আছে। যেমন মহাসমুদ্র হইতে বাষ্প উত্থিত হইযা মেঘের উৎপত্তি হয়, পরে তাহা বারিরূপে পরিণত হইয়া নদনদ্যাদি আকারে অবশেষে সেই মহাসমুদ্রেই মিলিত হয়, তদ্রূপ এই সৃষ্ট জগ, যাহা সেই অনন্ত মহাসাগর হইতে উৎপন্ন হইয়াছে, তাহা পরিণামে তাহাতে যে নিলীন হইবে না, ইহা কে বলিতে পারে? এপ্রকার জ্ঞানের উদয় হইলে ঈশ্বরে আত্মসমর্পণ করিতে কাহার না অভিলাষ জন্মে? অমৃত সাগরে নিমগ্ন হইয়া ভূমানন্দ উপভোগ করিলে পরমাত্মা হইতে জীবাত্মার পার্থক্য কে না ভুলিয়া যায়? তাহাতে তদ্গতচিত্ত হইয়া কে না বলে যে, নির্ব্বাণই জীবাত্মার পরা গতি?
উপরে যাহা লিখিত হইল, তাহা পাঠ করিলে বুঝিতে পারিবেন যে, আত্মার অস্তিত্ব-ধ্বংসকে বুদ্ধদেব নির্ব্বাণ বলেন নাই। যে অর্থে বেদান্ত-শাস্ত্র পর-