মাত্মাতে জীবাত্মার লীন হওয়াকে নির্ব্বাণ বলে, সে অর্থেও তিনি নির্ব্বাণ শব্দ ব্যবহার করেন নাই। তাঁহার কথিত নির্ব্বাণ আধ্যাত্মিক নির্ব্বাণ। হৃদয় আমাকে বলিয়া দিতেছে যে, ঈশ্বরকে একমাত্র নিত্য পদার্থ ও জীবের পরা গতি, এবং জীবাত্মাকে অনিত্য ও নশ্বর জ্ঞানে ঈশ্বরে আত্ম-সমর্পণ এবং ঈশ্বর-প্রেমে বিহ্বলতা ও তজ্জনিত স্বাস্তিত্ব-জ্ঞানের বিচ্যুতিকে বুদ্ধদেব নির্ব্বাণ-মুক্তি মনে করিতেন। আত্মার বিনাশসাধন-জন্য তিনি মনুষ্যকে সুখৈশ্বর্য্য ত্যাগপূর্ব্বক কঠোর ব্রতাবলম্বন ও ধর্ম্মানুষ্ঠান করিতে উপদেশ দেন নাই। তিনি জানিতেন যে, ঈশ্বর-প্রেমে উন্মত্ত হইয়া, স্বীয় অস্তিত্ব ভুলিয়া গিয়া, ঈশ্বরে লীন না হইলে অমরত্ব-লাভের উপায়ান্তর নাই। নিজের অস্তিত্বের বিচ্যুতি তাহাঁর প্রার্থনীয় ছিল না; কেবলমাত্র স্বীয় অস্তিত্ব-জ্ঞানের বিচ্যুতি তিনি প্রার্থনা করিয়াছিলেন। অস্তিত্ব-জ্ঞানের বিচ্যুতি হইলেই অস্তিত্বের বিচ্যুতি হয় না। সুষুপ্তি অবস্থাকে ত কেহ আত্মার বিধ্বংস বলিয়া মনে করে না। দার্শনিক পণ্ডিতগণ বলিবেন যে, অস্তিত্ব-জ্ঞানের বিচ্যুতি ও অস্তিত্বের বিচ্যুতি একই কথা, কেননা যে অস্তিত্বের
পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৭৬
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
‘নির্ব্বাণ’ শব্দের ব্যাখ্যা।
৬৫