জ্ঞান নাই, তাহা অনস্তিত্বের তুল্য। কিন্তু আমি বৈজ্ঞানিক বা প্রাকৃতিক বিচ্যুতির কথা বলিতেছি না, আমি বলিতেছি আধ্যাত্মিক বিচ্যুতির কথা। ইহা জ্ঞানের সম্পূর্ণ বিচ্যুতি নহে, পরমাত্মা হইতে জীবাত্মা যে পৃথক্, এবম্প্রকার জ্ঞানের বিচ্যুতি মাত্র। বাক্যের দ্বারা এ ভাবটী সম্যগ্ররূপে প্রকাশ করা সম্ভবপর নহে। একবার নয়ন মুদ্রিত করিয়া চিন্তা করুন যে, “আমি সেই অমৃত প্রেম-সাগরে নিমগ্ন হইয়া তদ্সাস্বাদন করিতেছি”; উন্মত্ত হইবেন, আত্মবিস্মৃত হইবেন ও তখন বুঝিতে পারিবেন আধ্যাত্মিক নির্ব্বাণের প্রকৃত মর্ম্ম কি? তখন বুঝিবেন, যে ‘আত্মজ্ঞানের বিচ্যুতি’ ও ‘আত্মার নিধন’ একার্থ-প্রতিপাদক বাক্য নহে। বৌদ্ধ-গ্রন্থেও নির্ব্বাণ-লাভের চারিটী পদ নির্দ্দিষ্ট করা হইয়াছে; যথা—পূর্ণ শ্রদ্ধা, পূর্ণ—চিন্তা পূর্ণ বাক্য ও পূর্ণ ক্রিয়া। এই কয়টী পথ অবলম্বন করিলে সংসারের অনিত্যতা-বিষয়ক জ্ঞানের উৎপত্তি হয় ও আত্মসংযমের অধিকার জন্মে। বুদ্ধদেব বুঝিয়াছিলেন, এইরূপ জ্ঞানের উদয় এবং চিত্তবৃত্তির নিরোধ হইলে জীবের জ্ঞানচক্ষু প্রস্ফুটিত হইবে; অন্যান্য সোপানে আরোহণের উপায় তাহাকে আর বলিয়া
পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৭৭
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৬৬
দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র।