দিতে হইবে না, ঈশ্বরানুকম্পায় সে তখন সকলই বুঝিতে পারিবে। এই জন্যই তিনি অতীন্দ্রিয় বিষয়ের আলোচনায় প্রবৃত্ত হইয়া শ্রোতাদিগের মন বিপর্য্যস্ত করিবার চেষ্টা করেন নাই। তিনি জানিতেন যে, জ্ঞানই বিশ্বাসের মূলাধার। জ্ঞান-বিহীন বিশ্বাস, অন্ধ বিশ্বাস। তাহা চিরস্থায়ী নহে; তাহা কালে ভ্রমপুঞ্জে পরিবেষ্টিত হইয়া মনুষ্য-মন অজ্ঞানতামসাচ্ছন্ন করে। প্রকৃত জ্ঞানী ভিন্ন অন্যে নির্ব্বাণভাবের মর্ম্ম গ্রহণ করিতে পারে না, নির্ব্বাণ-লাভের অধিকারী হয় না। জ্ঞান বিস্তার করা মনুষ্যের প্রকৃত হিতাকাঙ্ক্ষী ধর্ম্মপ্রচারকের প্রথম কর্ত্তব্য। এই জন্যই বুদ্ধদেব জ্ঞান-লাভের উপায় বিশদভাবে বলিয়া দিয়াছেন। তাঁহার হৃদয়স্থিত মহদ্ভাবনিকর যদি তিনি সাধারণ-সমক্ষে প্রকাশ করিতেন, তাহা হইলে কেহ কি তাহার মর্ম্মগ্রহণে সমর্থ হইত? না তদনুসারে কার্য্য করিতে পারিত? কর্ষিত ও উপযুক্ত ভূমি ভিন্ন কোন্ কৃষক জঙ্গলাবৃত কঠিন মৃত্তিকায় বীজ বপন করে? এবং কেই বা তদ্রূপ কার্য্যে ফল লাভ করে?
পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৭৮
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
‘নির্ব্বাণ’ শব্দের ব্যাখ্যা।
৬৭