বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৭৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৬৮
দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র।

নির্ব্বাণ ও মধুর প্রেম।

 আমি ইতিপূর্বে বলিয়াছি যে, চৈতন্যদেবের মধুর প্রেমে এবং বুদ্ধদেবের নির্ব্বাণে পার্থক্য নাই। দুই ভাবে দৃষ্টতঃ পার্থক্য লক্ষিত হয়, কিন্তু বস্তুগত কোন পার্থক্য নাই। একটী ভাব প্রেমাধিক্য, দ্বিতীয় ভাবটী জ্ঞানাধিক্য পরিচায়ক। চৈতন্য-প্রভুর জন্মের বহু পূর্ব্বে বুদ্ধদেব জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। তৎকালে জগৎ অজ্ঞানান্ধকারে আচ্ছন্ন ছিল, তজ্জন্য তিনি জ্ঞানপ্রচারে প্রবৃত্ত হন। চৈতন্যদেব যখন অবতীর্ণ হন, তৎকালে ‘জ্ঞান’-সম্বন্ধে উপদেশ দিবার কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। তিনি দেখিলেন, প্রেমের ভিত্তিভূমি গ্রথিত হইয়াছে, তজ্জন্য তিনি প্রেম-প্রচারে প্রবৃত্ত হইলেন। জ্ঞান ও প্রেম নির্ব্বাণ-সাধনার দুইটী অঙ্গ। জ্ঞান হইতেছে আদি, প্রেম হইতেছে অন্ত অঙ্গ। চৈতন্যের মতে “প্রেম সর্ব্ব-সাধ্য-সার।” আবার কান্ত-ভাব “প্রেম-সাধ্য-সার।” কান্ত-ভাবে জীবাত্মা ও পরমাত্মার পার্থক্য-জ্ঞান তিরোহিত হয়, এবং উভয়ের একত্ব-জ্ঞানের উৎপত্তি হয়। এ প্রেমে আত্মজ্ঞান নাই, আত্মসুখেচ্ছা নাই; ইহা নিঃস্বার্থ প্রেম।