“আত্মেন্দ্রিয়-প্রীতি-ইচ্ছা তারে বলি কাম।
কৃষ্ণেন্দ্রিয়-প্রীতি-ইচ্ছা ধরে প্রেম-নাম॥”
এই কারণেই আমি বলিয়াছি যে, বুদ্ধদেবের নির্ব্বাণে ও চৈতন্য প্রভুর মধুর প্রেমে কোনও পার্থক্য নাই। আপনি পরম বৈষ্ণব, চৈতন্য-ধর্ম্ম-সম্বন্ধে আপনাকে অধিক কি বলিব, আর আমি জানিই বা কি?
কৈবল্য-পদ।
নির্ব্বাণ-বিষয়ের আলোচনা শেষ করিবার পূর্ব্বে আরও দুই একটী কথার উল্লেখ করিব। আমি ইতিপূর্ব্বে পাতঞ্জল দর্শনের উল্লেখ করিয়াছি। উক্তদর্শন-প্রবর্ত্তকের মতে ‘কৈবল্য-পদ’-লাভই জীবের মোক্ষফল। মহর্ষি পতঞ্জলি বলেন যে, যোগিগণ সমাধি-বলে ‘অনাশয়’ অর্থাৎ কর্ম্ম-বাসনা-বিরহিতাবস্থা প্রাপ্ত হন। সাধারণের চিত্ত হইতে তাঁহাদের চিত্ত বিলক্ষণ অর্থাৎ ক্লেশাদি-পরিশূন্য। তাঁহাদিগের কোনপ্রকার কর্ম্মফলের অভিলাষ নাই। যোগদ্বারা বাসনা নির্ম্মল হইলে প্রতিক্ষণেই চিত্তের নশ্বরত্ব উপলব্ধি হয়, সুতরাং চিত্তগত বাসনাও অনিত্যরূপে