প্রতীত হয়। যিনি পুরুষ চৈতন্য, তিনিই চিত্তের প্রভু; তিনি চিন্ময়; তাঁহার কোনরূপ পরিণাম অর্থাৎ অবস্থান্তর হয় না। কিন্তু চিত্ত দৃশ্য ও জড় পদার্থ, স্বয়ং প্রকাশক নহে। বুদ্ধির স্বাভাবিক জ্ঞান নাই, কেবল আত্মার সহযোগে এইরূপ জ্ঞান হইয়া থাকে; যেহেতু আত্মা স্বপ্রকাশক ও পরপ্রকাশক, অর্থাৎ তিনি আপনি প্রকাশ পায়েন ও অপরকেও প্রকাশ করিতে পারেন। তজ্জন্য আত্মার সহযোগে বুদ্ধিদ্বারা চিত্তের বস্তুজ্ঞান জন্মিয়া থাকে। আত্মা ভিন্ন মন, বুদ্ধি, সকলই জড় পদার্থ। যে সময়ে চিত্ত অন্য বিষয় অনাসক্ত হইয়া কেবল সেই চিন্ময় পুরুষে অবস্থিতিপূর্ব্বক সেই চিন্ময় আত্মার চিৎস্বরূপ প্রাপ্ত হয়, তখনই চিত্ত আপনি আপনাকে জানিতে পারে, এবং সকল প্রকার সূক্ষ্ম বস্তু গ্রহণ করিতে ও সর্ব্ব কার্য্য সাধন করিতে সমর্থ হয় এবং মোক্ষ-প্রাপ্তির পথে গমন করিতে থাকে। ভোগসাধন ও মোক্ষ-সাধনই পুরুষের প্রয়োজন। যখন সত্ত্বগুণকে অভিভূত করিয়া রজোগুণ ও তমোগুণের বৃদ্ধি হইতে থাকে, তখনই প্রকৃতি পুরুষের ভোগ সাধন করে, আর যখন রজোগুণ ও তমোগুণকে
পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৮১
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭০
দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র।