বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৮২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
কৈবল্য-পদ।
৭১

অভিভূত করিয়া সত্ত্বগুণ প্রকাশ পায়, তখনই ঐ প্রকৃতি আত্মার মোক্ষ সাধন করে। চিত্ত পুরুষের সহিত মিলিত হইলেই ঐ সকল কার্য্য করিতে পারে। যে সময়ে চিত্ত আপনার ও পুরুষের বিশেষ দর্শন করে, তখন কর্ত্তৃত্ব, জ্ঞাতৃত্ব ও ভোক্তৃত্বাদি জ্ঞান নিবৃত্ত হইয়া আত্মার সহিত ঐক্য প্রাপ্ত হয়। “আমি কর্ত্তা, আমি জ্ঞাতা, ও আমি ভোক্তা” ইত্যাদি জ্ঞান তিরোহিত হইলে, আর তাহার কোন কর্ম্মের চেষ্টা থাকে না। চিত্ত আপনার স্বরূপ জানিতে পারিলেই আত্মাকার প্রাপ্ত হইয়া কৈবল্য-পদ লাভ করে। তখন কেবল চিন্ময় আত্মামাত্র অবশিষ্ট থাকে। কৈবল্যের সাধারণ স্বরূপ এই, “গুণ সকল ভোগ ও অপবর্গ-লক্ষণ পুরুষার্থশূন্য হইলে প্রকৃতির পরিণামিত্ব রহিত হয় (অর্থাৎ প্রকৃতি স্বকারণে লয় প্রাপ্ত হয়), ক্ষণকালের নিমিত্তও কোনরূপ বিকার উপস্থিত হয় না; অথবা চিৎ-শক্তির স্বরূপের লয় হইয়া আত্মার চিৎস্বরূপে যে অবস্থিতি হয়, তাহার নাম কৈবল্য।” মনোযোগ দিয়া এই কথাগুলি পাঠ করিলে বুঝা যায় যে, পতঞ্জলির কৈবল্যপদেও নির্ব্বাণ-ভাব নিহিত আছে। কৈবল্য-পদ নীরস, মধুর-ভাব-বিরহিত ও নির্ব্বাণের অনুবর্ত্তী মাত্র।