বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৮৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭২
দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র।

 উপনিষদের মধ্যেও জীবাত্মা ও পরব্রহ্মের অভেদ-প্রতিপাদক অনেকগুলি মহাবাক্য দেখিতে পাওয়া যায়। তাহা পাঠ করিলেও মনে হয় যে, উপনিষৎকারগণ নির্ব্বাণভাব কতক পরিমাণে হৃদয়ঙ্গম করিয়াছিলেন। ‘অহং ব্রহ্মাস্মি’, আমি ব্রহ্ম; ‘তত্ত্বমসি’, তুমি ব্রহ্ম; ‘অহমাত্মা ব্রহ্ম’, এই জীবাত্মা ব্রহ্ম, ইত্যাদি বাক্য ‘নির্ব্বাণ’-ভাব কথঞ্চিৎ পরিমাণে প্রকাশ করিতেছে। তাঁহারা নির্ব্বাণের বৈজ্ঞানিক অঙ্গমাত্র দর্শন করিয়াছিলেন বলিয়া অদ্বৈতবাদ প্রচার করিয়াছিলেন। যাঁহারা নির্ব্বাণের আধ্যাত্মিক ভাব হৃদয়ঙ্গম করিয়াছেন, তাঁহারা বুদ্ধদেবের ন্যায় স্বাস্তিত্ব ভুলিয়া যান; চৈতন্য-প্রভুর ন্যায় ‘কৃষ্ণেন্দ্রিয়প্রীতি’-কামনায় বিহ্বল হন; ‘আমি’, ‘তুমি’ ও ‘জীবাত্মা’ ইত্যাকার জ্ঞান তাঁহাদের হৃদয় হইতে তিরোহিত হয়; অদ্বৈতবাদের প্রকৃততা তাঁহারা স্বীকার করেন না। এ সম্বন্ধে আপনাকে একটা কথা বলিব আপনি ভাবিবেন না যে, আমি ‘অদ্বৈতবাদ’ মতকে এককালীন ভ্রমাত্মক মনে করি। আমার মতে অদ্বৈতবাদে সত্য ও ভ্রম উভয়ই বর্ত্তমান আছে। ইহা প্রকৃত মতের একপার্শ্বিক দৃষ্টি মাত্র। বৈজ্ঞানিক-