অর্পণ করিব, তাহাতেই আপনি সন্তুষ্ট হইবেন, তদ্বিষয়ে আমার অণুমাত্র সন্দেহ নাই। এই সাহসে এই অসম্পূর্ণ ও ভ্রমময় বৃত্তান্ত আপনাকে উপহার দিতেছি।
কাঞ্চিনজিঙ্ঘা।
২২শে জুন শুক্রবার।—অদ্য প্রাতে আকাশমণ্ডলে মেঘের কণামাত্র উদয় হয় নাই। সুনীল নভঃস্থলে ভগবান্ মরীচিমালী সগর্ব্বে পরিভ্রমণ এবং তীক্ষ্ণ রশ্মি-রাশি বিকীর্ণ করত ধরাতলস্থ ধ্বান্ত নাশ করিতেছেন দেখিয়া আমি শয্যাত্যাগ করিলাম। উঠিবামাত্রই এক অপূর্ব্ব দৃশ্য নয়ন-গোচর হইল। দূরে তুষার-মণ্ডিত একটী পর্বত-শৃঙ্গ প্রদীপ্ত-রজত-রাশিসদৃশ শোভা পাইতেছে। ভূগোলবেত্তৃগণ ইহাকে ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ বলেন, কিন্তু ভুটিয়ারা বলে, ইহার নাম ‘খাচেন ঝঙ্গা’; ‘খাচেন’ = মহাতুষার, ঝ =শৃঙ্গ, ঙ্গ = পঞ্চ, অর্থাৎ মহাতুষারমণ্ডিত পঞ্চ শৃঙ্গ। এই পর্ব্বতশৃঙ্গ বা শৃঙ্গমালা দার্জ্জিলিঙ্গ নগর হইতে উত্তরপশ্চিমে ৪৫ মাইল দূরে। ইহার উচ্চতা ২৮১৭৮ ফিট্।