এই পর্য্যন্ত বলিতে পারি যে, তিনি ‘রাজরাণী’ কমলার বিশেষ অনুগ্রহপাত্রী, অবশ্যই পরম রূপবতী হইবেন। কিয়দ্দূর গমন করিয়া দেখিলাম যে, দুইটী ঝরণা মিলিত হইয়া প্রবল-বেগে নিপতিত হইতেছে। এই নির্ঝরটাই নিম্নে গিয়া বৃহদাকার জলপ্রপাতে পরিণত হইয়া ‘ভিক্টোরিয়া ফল’ নাম প্রাপ্ত হইয়াছে। এ স্থানটী অতীব সুন্দর দুই দিকে দুইটী পর্ব্বতবাহু ও তন্মধ্যে বিগলিত রৌপ্যসদৃশ নির্ঝরবারি, এবং নিম্নে পর্বতপৃষ্ঠে স্তরে স্তরে সুন্দর সুগঠিত সৌধমালা নয়নের সার্থকতা সাধন করিল। অনেক ক্ষণ এই স্থানের শোভা দেখিলাম। সঙ্গে ছোট কন্যাটী ছিল, বনপুষ্প চয়ন ও গিরিকুন্তল উত্তোলন করিয়া তাহাকে বনদেবী সাজাইলাম, নিজের কোটের নানা স্থানে পুষ্পাদি সন্নিবেশিত করিলাম ও গিন্নির মস্তকাবরণের শোভা বাড়াইয়া দিলাম। হৃদয়ে নানাবিধ ভাবের উদয় হইল, কিন্তু ভাবগুলি আয়ত্তা ধীন করিবার জন্য যথেষ্ট সময় প্রাপ্ত হইলাম না। জঠরানল জ্বলিয়া উঠিল, মস্তক বিঘূর্ণিত হইল, ভাবসংগ্রহ কার্য্যটী স্থগিত রাখিয়া ভবনাভিমুখে প্রত্যাবর্ত্তন করিলাম। দাণ্ডি-যোগে ‘স্থূল শরীর’ বাসায়
পাতা:দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র - তারাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৫).djvu/৮৯
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭৮
দার্জ্জিলিঙ্গ-প্রবাসীর পত্র।