উত্তীর্ণ হইবার বহুপূর্বেই ‘লিঙ্গ শরীর’ তথায় গমন করত মিষ্টান্নাধারে প্রবেশ করিয়াছিল।
আহারান্তে পুনরায় ভ্রমণার্থ যাইব স্থির করিয়াছিলাম, কিন্তু বেলা দ্বিতীয় প্রহর অতীত না হইতেই ভয়ানক বৃষ্টি আরম্ভ হইল। ২৭শে জুন পর্য্যন্ত অনবরত বৃষ্টি পড়িল। একে একে বাসার সকলেরই পেটের পীড়া হইল। বর্ষার সময়ে এখানে পেটের পীড়ার বড় প্রাদুর্ভাব। যাহারা জল উষ্ণ না করিয়া পান করে, কি গাত্রাবরণ মুক্ত করিয়া থাকে, তাহারা এই রোগাক্রান্ত হয়। বড়ই বিপদ্গ্রস্ত হইলাম। দেশে ফিরিয়া যাইবার জন্য মন ব্যস্ত হইয়া পড়িল। কিছু দিন পূর্ব্বে যে জলদ-সঞ্চয়ে ঈশ্বরের অদ্ভুত লীলা দর্শন করিয়াছিলাম, সেই মেঘসঞ্চার মাধুর্য্য-বিহীন হইল; যে বিদ্যুদালোকে ঈশ্বরের বিমল জ্যোতি অনুভব করিয়াছিলাম, তাহা ভীষণাকার ধারণ করিল; কুজ্ঝটিকা বিরক্তিজনক, বারিবর্ষণ কষ্টদায়ক হইয়া উঠিল। আমার বাহ্যিক কোন পীড়া লক্ষিত হয় নাই, কিন্তু আভ্যন্তরিক পীড়া যে জন্মিয়াছিল, তাহা ত এই পত্রদ্বারাই প্রমাণীকৃত হইতেছে।