পাতা:দিল্লী চলো - সুভাষচন্দ্র বসু.pdf/২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।



মহাত্মাজীর প্রতি

 ভারতের জনগণ মহাত্মা গান্ধীর জীবনকথা ও তাঁর কার্য্যাবলীর সঙ্গে এত সুপরিচিত যে, আমাকে যদি তাঁর জীবনের ঘটনাবলীর কথা আবার বলতে হয়, তবে তাদের অভিজ্ঞতার অবমাননাই করা হবে। তার পরিবর্ত্তে ভারতের স্বাধীনতা-সংগ্রামের ইতিহাসে মহাত্মাজীর স্থান কোথায়, আমি শুধু তা-ই আলোচনা করব। ভারতের সেবায় এবং ভারতের স্বাধীনতা-অর্জ্জনের প্রচেষ্টায় মহাত্মা গান্ধীর অবদান এত অসামান্য ও অনুপম যে, তার জন্যে তাঁর নাম আমাদের জাতীয় ইতিহাসে সর্ব্বযুগে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত থাকবে।

 ভারতের ইতিহাসে মহাত্মা গান্ধীর যে স্থান, তা বুঝতে হলে বৃটিশ কর্ত্তৃক ভারত-বিজয়ের কথা সংক্ষেপে আলোচনা করা দরকার। আপনারা সকলে জানেন, বৃটিশ যখন ভারতের মাটিতে পদার্পণ করল, তখন ভারতে দুধ-ভাত ছিল সচ্ছল—ভারতের ঐশ্বর্য্যই সমুদ্রের ওপারের দারিদ্র্যপীড়িত ইংরাজদের প্রলুব্ধ করেছিল। আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি, রাজনীতিক দাসত্ব ও অর্থনীতিক শোষণের ফলে ভারতের জনগণ ক্ষুধায় ও অনাহারে প্রাণত্যাগ করছে। আর যে বৃটিশ জাতি একদিন দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত ছিল, আজ তারা ভারতের ধনসমৃদ্ধিতে পরিপুষ্ট ও ঐশ্বর্য্যশালী হয়ে উঠেছে। দুঃখ ও দুর্ভোগ, দীনতা ও নিপীড়নের ভিতর দিয়ে ভারতের জনগণ শেষ পর্য্যন্ত এই শিক্ষা লাভ করেছে যে, তাদের বহু রকমের সমস্যার একমাত্র সমাধান হচ্ছে তাদের হারানো স্বাধীনতার পুনরুদ্ধার সাধন।

১৪