পাতা:দিল্লী চলো - সুভাষচন্দ্র বসু.pdf/৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

পূর্ব্ব-এশিয়ার অবস্থা

 ইউরোপের অবস্থা সম্বন্ধে বলেছি। এখন ভারত প্রসঙ্গে পূর্ব্ব-এশিয়ার অবস্থা সম্বন্ধে বলব। আগেকার মতো আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই কথা বলব—বই পড়া বিদ্যে দিয়ে নয়।

 বিগত বিশ্বযুদ্ধে সাধারণ অবস্থা কি রকম ছিল আর এযুদ্ধেই বা কি রকম আছে, সে সম্বন্ধে তুলনামূলক সমালোচনা দিয়ে আমি এখনকার বিষয় বস্তুর আলোচনা শুরু করব। বিগত বিশ্বযুদ্ধে জাপান মিত্রপক্ষে ছিল, এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শত্রুরা ছিল শুধু ইউরোপে এবং নিকট-প্রাচ্যে অর্থাৎ পশ্চিম-এশিয়ায়। গতযুদ্ধের সময় যে সব ভারতীয় বিপ্লবী ভারতের বাইরে কাজ করছিলেন এবং যাঁরা ভারতীয় স্বাধীনতা-আন্দোলনের জন্যে ভারতে সাহায্য আনার চেষ্টা করছিলেন, তাঁদের কাছে সরবরাহপথের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় সমাধানের অতীত। সাগর-পথে “কোমাগাটা মারু” এবং অন্যান্য জাহাজে করে ভারতে সাহায্য আনার চেষ্টা খুব সহজেই ব্যর্থ হয়েছিল—আর উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের পথ ছিল বৃটিশদের দ্বারা বিশেষভাবে সুরক্ষিত। বর্ত্তমান যুদ্ধ ভারতের পূর্ব্ব-দ্বার খুলে দিয়েছে; এখন সীমান্ত অতিক্রম করে দেশে প্রবেশ করা আমাদের পক্ষে অত্যন্ত সহজ।

 গত যুদ্ধে বৃটিশরা তাদের সমস্ত যুদ্ধ-প্রচেষ্টা নিয়োজিত করতে পেরেছিল ইউরোপ ও নিকট-প্রাচ্যে—কারণ এশিয়ার বাকি অংশ ছিল মিত্রপক্ষের প্রভাব কিংবা নিয়ন্ত্রণাধীন। এযুদ্ধে ১৯৪১-এর ডিসেম্বর থেকে আমাদের মিত্রপক্ষীয়দের শুধু ইউরোপ এবং নিকট-প্রাচ্যেই যুদ্ধ

৮২