পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
১১২
দুই বোন

ঘর থেকে আমাকে। এখনি দূর করে তাড়িয়ে দাও। ” অাজ দিদি নিশ্চিত স্থির করে বসেছিল কিছুতেই উমিকে ক্ষমা করবে না। মন গেল গলে। আস্তে আস্তে উমিমালার মাথায় হাত বুলিয়ে বললে, “কিছু ভাবিসনে, যা হয় একটা উপায় হবে।”। উমি উঠে বসল। বললে, “দিদি তোমাদেরই বা কেন লোকসান হবে। আমারো তো টাকা আছে।” শমিলা বললে, “পাগল হয়েছিস? আমার বুঝি কিছু নেই। মথুরদাদাকে বলেছি, এই নিয়ে তিনি যেন কিছু গোল না করেন। লোকসান আমি পুরিয়ে দেব। আর তোকেও বলছি, আমি যে কিছু জানতে পেরেছি এ-কথা যেন তোর ভগ্নীপতি না টের পান।” “মাপ করো, দিদি, অামাকে মাপ করে।” এই ব’লে উমি আবার দিদির পায়ের উপর পড়ে মাথা ঠুকতে লাগল। শমিলা চোখের জল মুছে ক্লান্ত সুরে বললে, “কে কাকে মাপ করবে বোন। সংসারটা বড়ো জটিল। যা মনে করি, তা হয় না, যার জন্যে প্ৰাণপণ করি তা যায় ফেঁসে।”