পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
১১২
দুই বোন

দিদিকে ছেড়ে উমি একমুহূৰ্ত নড়তে চায় না। ওষুধপত্ৰ দেওয়া, নাওয়ানো খাওয়ানো শোওয়ানো সমস্ত খুটিনাটি নিজের হাতে। আবার বই পড়তে আরম্ভ করেছে, সেও দিদির বিছানার পাশে ব’সে। নিজেকেও অার বিশ্বাস করে না, শশাঙ্ককেও না। ফল হোলো। এই যে, শশাঙ্ক বারবার অাসে রোগীর ঘরে। পুরুষমানুষের অন্ধতাবশতই বুঝতে পারে না ছটফটানির তাৎপৰ্য ঐীর কাছে পড়ছে ধরা, লজায় মরছে উমি। শশাঙ্ক আসে মোহনবাগান ফুটবল ম্যাচের প্রলোভন নিয়ে, ব্যৰ্থ হয়। পেনসিলের দাগ দেওয়া খবরের কাগজ মেলে দেখায় বিজ্ঞাপনে চালি চ্যাপলিনের নাম। ফল হয় না কিছুই। উমি যখন দুৰ্লভ ছিল না তখনও বাধার ভিতর দিয়ে শশাঙ্ক কাজ কৰ্ম চালাতে চেষ্টা করত। এখন অসম্ভব হয়ে এল। হতভাগার এই নিরর্থক নিপীড়নে প্ৰথম প্ৰথম শমিলা বড়ো দুঃখেও সুখ পেত। কিন্তু ক্ৰমে দেখলে ওর যন্ত্ৰণা উঠছে প্ৰবল হয়ে, মুখ গেছে শুকিয়ে, চোখের নিচে পড়ছে কালি। উমি খাওয়ার সময় কাছে বসে না, সেজন্য শশাঙ্কর খাওয়ার উৎসাহ এবং পরিমাণ কমে যাচ্ছে তা ওকে দেখলেই বোঝা যায়।