পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
১১২
দুই বোন

সম্প্ৰতি হঠাৎ এ বাড়িতে আনন্দের যে বান ডেকে এসেছিল সেটা গেছে সম্পূৰ্ণ ভঁটিয়ে, অথচ পূর্বে ওদের যে-একটা সহজ দিনযাত্ৰা ছিল সেও রইল না। একদা শশাঙ্ক নিজের চেহারার চর্চায় উদাসীন ছিল। নাপিতকে দিয়ে চুল ছাঁটাত প্ৰায় ন্যাড়া ক’রে। আঁচড়াবার প্রয়োজন ঠেকেছিল সিকির সিকিতে। শমিলা তাই নিয়ে অনেকবার প্রবল বাগবিতণ্ডা ক’রে হাল ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু ইদানীং উমির উচ্চহাস্য সংযুক্ত সংক্ষিপ্ত আপত্তি নিস্থল হয়নি। নুতন সংস্করণের কেশোদগমের সঙ্গে সুগন্ধি তৈলের সংযোগ-সাধন শশাঙ্কর মাথায় এই প্ৰথম ঘটল। কিন্তু তার পর অাজ কাল কেশোল্পতিবিধানের অনাদরেই ধরা পড়ছে অন্তৰ্বেদনা। এতটা বেশি যে, এ নিয়ে প্ৰকাশ্য বা অপ্ৰকাশ্য তীব্ৰ হাসি আর চলে না। শৰ্মিলার উৎকণ্ঠা তার ক্ষোভকে ছাড়িয়ে গেল। স্বামীর প্রতি করুণায় ও নিজের প্রতি ধিক্কারে তার বুকের মধ্যে টন্‌টন্‌ করে। উঠছে, রোগের ব্যথাকে দিচ্ছে এগিয়ে। ময়দানে হবে কেল্লার ফৌজদারের যুদ্ধের খেলা। শশাঙ্ক ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করতে এল, “যাবে উমি, দেখতে। ভালো জায়গা ঠিক করে রেখেছি।”