পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
১১২
দুই বোন

চারিদিক থেকেই সে একটা অব্যক্ত সমৰ্থন পাচ্ছে। শশাঙ্ক একরকম ঠিক করে নিয়েছে, শৰ্মিলার মনে বিশেষ কোনো ব্যথা নেই, ওদের দু-জনকে একত্ৰ মিলিয়ে খুশি দেখেই সে খুশি। সাধারণ মেয়ের পক্ষে এটা সম্ভব হোতে পারত না। কিন্তু শৰ্মিলা যে অসাধারণ। শশাঙ্কর চাকরির আমলে একজন আৰ্টিষ্ট রঙিন পেনসিল দিয়ে শমিলার একটা ছবি একেছিল। এতদিন সেটা ছিল পোৰ্টফোলিয়োর মধ্যে। সেইটেকে বের করে বিলিতি দোকানে খুব দামি ফ্যাশানে বাঁধিয়ে নিয়ে আপিসঘরে যেখানে বসে ঠিক তার সমুখে দেয়ালে বুলিয়ে রাখলে। সামনের ফুলদানিতে রোজ মালী ফুল দিয়ে যায়। অবশেষে একদিন শশাঙ্ক বাগানে সূৰ্যমুখী কী রকম ফুটেছে দেখাতে দেখাতে হঠাৎ উৰ্মির হাত চেপে ধরে বললে, “তুমি নিশ্চয় জানো, তোমাকে আমি ভালোবাসি। অার তোমার দিদি, তিনি তো দেবী। তঁাকে যত ভক্তি করি জীবনে অার কাউকে তেমন করিনে। তিনি পৃথিবীর মানুষ নন, তিনি আমাদের অনেক উপরে।” এ-কথা দিদি বারবার ক’রে উৰ্মিকে স্পষ্ট বুঝিয়ে