পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
১১২
দুই বোন

দিয়েছে যে, তার অবৰ্তমানে সবচেয়ে যেটা সান্তনার বিষয় সে উৰ্মিকে নিয়েই। এ সংসারে অন্য কোনো মেয়ের অাবিৰ্ভাব কল্পনা করতেও দিদিকে বাজত, অথচ শশাঙ্ককে যত্ন করবার জন্যে কোনো মেয়েই থাকবে না। এমন লক্ষ্মীছাড়া অবস্থাও দিদি মনে মনে সইতে পারত না। ব্যবসার কথাও দিদি ওকে বুঝিয়েছে, বলেছে যদি ভালোবাসায় বাধা পায় তাহলে সেই ধাক্কায় ওর কাজকৰ্ম সব যাবে নষ্ট হয়ে। ওর মন যখন তৃপ্ত হবে তখনি অাবার কাজকর্মে আপনি আসবে শৃঙ্খলা। শশাঙ্কের মন উঠেছে মেতে। ও এমন একটা চন্দ্ৰ লোকে অাছে যেখানে সংসারের সব দায়িত্ব সুখতন্দ্ৰায় লীন। আজকাল রবিবার-পালনে বিশুদ্ধ গ্ৰীস্টানের মতোই ওর অস্বলিত নিষ্ঠা। একদিন শৰ্মিলাকে গিয়ে বললে, “দেখো, পাটের সাহেবদের কাছে তাদের সীমলঞ্চ পাওয়া গেছে,— অাজ রবিবার, মনে করছি ভোরে উমিকে নিয়ে ডায়মণ্ডহাৰ্বারের কাছে যাব, সন্ধ্যার অাগেই অাসব ফিরে।” শমিলার বুকের শিরাগুলো কে যেন দিলে মুচড়ে, বেদনায় কপালের চামড়া উঠল কুঞ্চিত হয়। শশাঙ্কের