পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
১১২
দুই বোন

না । সে আপত্তি করলে। শৰ্মিলা বললে, “আর কোনো ফল হবে না, অন্তত মামা সান্তনা পাবেন ।” দেখতে দেখতে ফল হোলো । নিশ্বাসের কষ্ট কমেছে, রক্ত ওঠা গেল বন্ধ হয়ে । সাত দিন যায়, পনেরো দিন যায়, শৰ্মিলা । উঠে বসল। ডাক্তার বললে, মৃত্যুর ধাক্কাতেই অনেক সময় শরীর মরিয়া হয়ে উঠে শেষ-ঠেলায় আপনাকে আপনি বঁচিয়ে তোলে । শৰ্মিলা বেঁচে উঠল। তখন সে ভাবতে লাগল, “এ কী অাপদ, কী করি । শেষকালে বেঁচে ওঠাই কি মরার বাড়া হয়ে দাড়াবে । ওদিকে উৰ্মি জিনিসপত্ৰ গোছাচ্ছে । এখানে তার পাল৷ শেষ হোলো । দিদি এসে বললে, “তুই যেতে পারবিনে ।” “সে কী কথা৷ ।” “হিন্দুসমাজে বোন-সতিনের ঘর কি কোনো মেয়ে কোনোদিন করেনি।” “ছিঃ ।” “লোকনিন্দা । বিধির বিধানের চেয়ে বড়ো হবে লোকের মুখের কথা ।”