পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জাভা-যাত্রীর পত্র উৎসব। খরচপত্র বাদেও যথেষ্ট উদ্ধৃবৃত্ত যদি থাকে তবেই সাহস করে খরচপত্র চলে, এই কথাটা মানি বলে আমরা মুনফ চাই। সেটা ভোগের বাহুল্যের জন্যে নয়, সেটা সাহসের আনন্দের জন্তে । মানুষের বুকের পাট যাতে বাড়ে তাতেই মানুষকে কৃতাৰ্থ করে। বর্তমান যুগে যুরোপেই মানুষকে দেখি যার প্রাণের মুনফা নানা খাতায় কেবলই বেড়ে চলেছে। এইজন্তেই পৃথিবীতে এত ঘট। করে সে আলো জ্বালল। সেই আলোতে সে সকল দিকে প্রকাশমান। অল্প তেলে কেবল একটিমাত্র প্রদীপে ঘরের কাজ চলে যায়, কিন্তু পুরো মানুষটা তাতে অপ্রকাশিত থাকে। এই অপ্রকাশ অস্তিত্বের কাপণ্য, কম করে থাকা । এটা মানবসত্যের অবসাদ । জীবলোকে মানুষরা জ্যোতিষ্কজাতীয় ; জন্তুরা কেবলমাত্র বেঁচে থাকে, তাদের অস্তিত্ব দীপ্ত হয়ে ওঠে নি। কিন্তু, মানুষ কেবল-যে আত্মরক্ষা করবে তা নয়, সে আত্মপ্রকাশ করবে। এই প্রকাশের জন্যে আত্মার দীপ্তি চাই। অস্তিত্বের প্রাচুর্য থেকে, অস্তিত্বের ঐশ্বর্য থেকেই এই দীপ্তি। বর্তমান যুগে যুরোপই সকল দিকে আপনার রশ্মি বিকীর্ণ করেছে ; তাই মানুষ সেখানে কেবল-যে টিকে আছে তা নয়, টিকে থাকার চেয়ে আরো অনেক বেশি করে আছে । পর্যাপ্তে চলে আত্মরক্ষা, অপর্যাপ্তে আত্মপ্রকাশ। যুরোপে জীবন অপর্যাপ্ত । এটাতে আমি মনে দুঃখ করি নে। কারণ, যে দেশেই যে কালেই মানুষ কৃতাৰ্থ হোক-না কেন, সকল দেশের সকল কালের মানুষকেই সে কৃতাৰ্থ করে। যুরোপ আজ প্রাণপ্রাচুর্যে সমস্ত পৃথিবীকেই স্পর্শ করেছে। সর্বত্রই মানুষের সুপ্ত শক্তির দ্বারে তার আঘাত এসে পড়ল। প্রভূতের দ্বারাই তার প্রভাব। যুরোপ সর্বদেশ সর্বকালকে-যে স্পর্শ করেছে সে তার কোন