পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রথম পত্র সকল কালের, সকল মানুষের— এইজন্যেই মানুষকে তাতে দেবতার শক্তি দিয়েছে, সকলরকম দুঃখদৈন্তপীড়াকে মানবলোক থেকে দূর করবার জন্তে সে অস্ত্র গড়ছে ; মানুষের অমরাবতী নির্মাণের বিশ্বকর্ম এই বিজ্ঞান। কিন্তু, এই বিজ্ঞানই কর্মের রূপে সে হল যমের বাহন। এই পৃথিবীতে মানুষ যদি একেবারে মরে তবে সে এইজন্তেই মরবে— সে সত্যকে জেনেছিল কিন্তু সত্যের ব্যবহার জানে নি। সে দেবতার শক্তি পেয়েছিল, দেবত্ব পায় নি । বর্তমান যুগে মামুষের মধ্যে সেই দেবতার শক্তি দেখা দিয়েছে যুরোপে। কিন্তু সেই শক্তি কি মানুষকে মারবার জন্যেই দেখা দিল ? গত যুরোপের যুদ্ধে এই প্রশ্নটাই ভয়ংকর মূর্তিতে প্রকাশ পেয়েছে। যুরোপের বাইরে সর্বত্রই যুরোপ বিভীষিকা হয়ে উঠেছে, তার প্রমাণ আজ এসিয়া আফ্রিকা জুড়ে । যুরোপ আপন বিজ্ঞান নিয়ে আমাদের মধ্যে আসে নি, এসেছে আপন কামনা নিয়ে । তাই এসিয়ার হৃদয়ের মধ্যে যুরোপের প্রকাশ অবরুদ্ধ। বিজ্ঞানের স্পর্ধায়, শক্তির গর্বে, অর্থের লোভে, পৃথিবী জুড়ে মানুষকে লাঞ্ছিত করবার এই-যে চর্চা বহুকাল থেকে যুরোপ করছে, নিজের ঘরের মধ্যে এর ফল যখন ফলল তখন আজ সে উদবিগ্ন । তৃণে আগুন লাগাচ্ছিল, আজ তার নিজের বনস্পতিতে সেই আগুন লাগল। সে ভাবছে, থামব কোথায় ? সে থামা কি যন্ত্রকে থামিয়ে দিয়ে ? আমি তা বলি নে । থামাতে হবে লোভ । সে কি ধর্ম-উপদেশ দিয়ে হবে ? তাও সম্পূর্ণ হবে না। তার সঙ্গে বিজ্ঞানেরও যোগ চাই । যে সাধনায় লোভকে ভিতরের দিক থেকে দমন করে সে সাধনা ধর্মের, কিন্তু যে সাধনায় লোভের কারণকে বাইরের দিক থেকে দূর করে সে সাধনা বিজ্ঞানের। দুইয়ের সম্মিলনে সাধনা (t