পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দ্বিতীয় পত্র পরিয়ে দেয়, হ্যলোকের ফরাশ সেই কাগুটা করলে ; একটা ফিকে ধোয়াটে রঙের আবরণ দিয়ে আকাশ-সভার তৈজসপত্র দিলে মুড়ে। এই অবস্থায় আমার মন তার হালকা কলমের খেলা আপনিই বন্ধ করে দেয়। বকুনির কুলহারা ঝরনা বাক্যের নদী হয়ে কখন একসময় গভীর খাদে চলতে আরম্ভ করে ; তখন তার চলাটা কেবলমাত্র সূর্যের আলোয় কলধ্বনির নূপুর বাজানোর জন্তে নয়, একটা কোনো লক্ষ্যে পৌছবার সাধনায়। আনমনা সাহিত্য তখন লোকালয়ের মাঝখানে এসে পড়ে সমনস্ক হয়ে ওঠে। তখন বাণীকে অনেক বেশি অতিক্রম করে ভাবনাগুলো মাথা তুলে দাড়ায় । উপনিষদে আছে, স নো বন্ধুর্জনিত স বিধাতা : তিনি ভালোবাসেন, তিনি সৃষ্টি করেন, আবার তিনিই বিধান করেন। স্থষ্টি-করাটা সহজ আনন্দের খেয়ালে, বিধান-করায় চিন্তা আছে । যাকে খাস সাহিত্য বলে সেটা হল সেই সৃষ্টিকর্তার এলেকায়, সেটা কেবল আপন-মনে । যদি কোনো হিসাবি লোক স্রষ্টাকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে কেন সৃষ্টি করা হল’ তিনি জবাব দেন, “আমার খুশি | সেই খুশিটাই নানা রঙে নানা রসে আপনাতেই আপনি পর্যাপ্ত হয়ে ওঠে। পদ্মফুলকে যদি জিজ্ঞাসা করে ‘তুমি কেন হলে সে বলে, “আমি হবার জন্যেই হলুম। খাটি সাহিত্যেরও সেই একটিমাত্র জবাব । অর্থাৎ, সৃষ্টির একটা দিক আছে যেটা হচ্ছে স্থষ্টিকর্তার বিশুদ্ধ বকুনি। সে দিক থেকে এমনও বলা যেতে পারে, তিনি আমাকে চিঠি লিখছেন। আমার কোনো চিঠির জবাবে নয়, তার আপনার বলতে ইচ্ছে হয়েছে ব’লে ; কাউকে তো বলা চাই । অনেকেই মন দিয়ে শোনে না, অনেকে বলে, “এ তো সারবান নয় ; এ তো বন্ধুর আলাপ, এ তো সম্পত্তির দলিল নয়। সারবান থাকে মাটির >