পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জাভা-যাত্রীর পত্র পুর্বেই বলেছি, দীনতা থেকে লোভের জন্ম ; সেই লোভের একটি স্থলভমু সহোদরা আছে তার নাম জড়তা । লোভের মধ্যে অসংযত উদ্যম ; সেই উদ্যমই তাকে অশোভন করে। জড়তায় তার উলটো, সে নড়ে বসতে পারে না ; সে না পারে সজ্জাকে গড়তে, না পারে আবর্জনাকে দূর করতে ; তার অশোভনতা নিরুদ্যমের। সেই জড়তার অশোভনতায় আমাদের দেশের মানবসন্ত্রম নষ্ট করেছে। তাই আমাদের ব্যবহারে আমাদের জীবনের অনুষ্ঠানে সৌন্দর্য বিদায় নিতে বসল ; আমাদের ঘরে-দ্বারে বেশে-ভূষায় ব্যবহারসামগ্রীতে রুচির স্বাধীন প্রকাশ রইল না ; তার জায়গায় এসে পড়েছে চিত্তহীন আড়ম্বর— এতদূর পর্যন্ত শক্তির অসাড়ত এবং আপন রুচি সম্বন্ধেও নির্লজ্জ আত্ম-অবিশ্বাস যে, আমাদের সেই আড়ম্বরের সহায় হয়েছে চৌরঙ্গির বিলিতি দোকানগুলো। বারবার মনে করি, লেখাগুলোকে করব বঙ্কিমবাবু যাকে বলেছেন ‘সাধের তরণী’। কিন্তু, কোথা থেকে বোঝা এসে জমে, দেখতে দেখতে সাধের তরী হয়ে ওঠে বোঝাই-তরী। ভিতরে রয়েছে নানা প্রকারের ক্ষোভ, লেখনীর আওয়াজ শুনেই তারা স্থানে অস্থানে বেরিয়ে পড়ে ; কোনো বিশেষ প্রসঙ্গ যার মালেক নয় এমন একটা রচনা পেলেই সেটাকে অমিবাস গাড়ি করে তোলে। কেউ-বা ভিতরেই ঢুকে বেঞ্চির উপর পা তুলে বসে যায়, কেউ-বা পায়দানে চড়ে চলতে থাকে ; তার পরে যেখানে খুশি অকস্মাৎ লাফ দিয়ে নেমে পড়ে । আজ শ্রাবণমাসের পয়লা । কিন্তু বাকড়া-বুটি-ওয়ালা শ্রাবণ এক ভবঘুরে বেদের মতো তার কালো মেঘের তাবু গুটিয়ে নিয়ে কোথায় যে চলে গেছে তার ঠিকানা নেই। আজ যেন আকাশসরস্বতী নীলপদ্মের দোলায় দাড়িয়ে । আমার মন ওই সঙ্গে সঙ্গে > ૨