পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দ্বিতীয় পত্র ফুলছে সমস্ত পৃথিবীটাকে ঘিরে। আমি যেন আলোতে তৈরি, বাণীতে গড়া, বিশ্বরাগিণীতে ঝংকৃত, জলে স্থলে আকাশে ছড়িয়ে যাওয়া । আমি শুনতে পাচ্ছি সমুদ্রটা কোন কাল থেকে কেবলই ভেরী বাজাচ্ছে, আর পৃথিবীতে তারই উত্থানপতনের ছন্দে জীবের ইতিহাসযাত্রা চলেছে আবির্ভাবের অস্পষ্টতা থেকে তিরোভাবের অদৃশ্বের মধ্যে। একদল বিপুলকায় বিকটাকার প্রাণী যেন স্থষ্টিকর্তার দুঃস্বপ্নের মতো দলে দলে এল, আবার মিলিয়ে গেল। তার পরে মানুষের ইতিহাস কবে শুরু হল প্রদোষের ক্ষীণ আলোতে, গুহাগহবর-অরণ্যের ছায়ায় ছায়ায়। দুই পায়ের উপর খাড়া-দাড়ানো ছোটো ছোটো চটুল জীব, লাফ দিয়ে চড়ে চড়ে বসল মহাকায় বিপদবিভীষিকার পিঠের উপর, বিষ্ণু যেমন চড়েছেন গরুড়ের পিঠে। অসাধ্যের সাধনায় চলল তারা জীর্ণ যুগান্তরের ভগ্নাংশবিকীর্ণ দুর্গম পথে। তারই সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীকে ঘিরে ঘিরে বরুণের মৃদঙ্গ বাজতে লাগল দিনে রাত্রে, তরঙ্গে তরঙ্গে । আজ তাই শুনছি আর এমন কোনো-একটা কথা ছন্দে আবৃত্তি করতে ইচ্ছা করছে যা অনাদি কালের। আজকের দিনের মতোই এইরকম আলো-ঝলমলানো কলকল্লোলিত নীলজলের দিকে তাকিয়ে ইংরেজ কবি শেলি একটি কবিতা লিখেছেন— The sun is warm, the sky is clear, The waves are dancing fast and bright. কিন্তু, এ তার ক্লান্ত জীবনের অবসাদের বিলাপ। এর সঙ্গে আজ ভিতরে বাইরে মিল পাচ্ছি নে। একটা জগৎজোড়া কলক্ৰন্দন শুনতে পাচ্ছি বটে, সেই ক্ৰন্দন ভরিয়ে তুলছে অন্তরীক্ষকে, যে অন্তরীক্ষের উপর বিশ্বরচনার ভূমিকা, যে অন্তরীক্ষকে বৈদিক ভারত নাম দিয়েছে ক্ৰন্দসী । এ কিন্তু শ্রান্তিভারাতুর পরাভবের ক্ৰন্দন >\2