পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তৃতীয় পত্র সাধনার পথে ভয় বারবার ব্যঙ্গ করে উঠছে ; বিদ্রোহীর অন্তরের মধ্যে উত্তরসাধক অবিচলিত বসে প্রহরে প্রহরে হাক দিচ্ছে, ‘মা ভৈঃ ? কালকের চিঠিতে ক্রন্দসীর কথা বলেছি, অন্তরীক্ষে উচ্ছসিত হয়ে উঠছে সত্তার ক্ৰন্দন গ্রহে নক্ষত্রে। এই সত্তা বিদ্রোহী, অসীম অব্যক্তের সঙ্গে তার নিরস্তর লড়াই। বিরাট অপ্রকাশের তুলনায় সে অতি সামান্ত, কিন্তু অন্ধকারের অন্তহীন পারাবারের উপর দিয়ে ছোটো ছোটো কোটি কোটি আলোর তরী সে ভাসিয়ে দিয়েছে— দেশ-কালের বুক চিরে অতলস্পর্শের উপর দিয়ে তার অভিযান । কিছু ডুবছে, কিছু ভাসছে, তবু যাত্রার শেষ নেই। প্রাণ তার বিদ্রোহের ধ্বজ নিয়ে পৃথিবীতে অতি দুর্বলরূপে একদিন দেখা দিয়েছিল। অতি প্রকাণ্ড, অতি কঠিন, অতি গুরুভার অপ্রাণ চারি দিকে গদা উদ্যত করে দাড়িয়ে, আপন ধুলোর কয়েদখানায় তাকে দ্বার জানলা বন্ধ করে প্রচণ্ড শাসনে রাখতে চায় । কিন্তু, বিদ্রোহী প্রাণ কিছুতেই দমে না ; দেয়ালে দেয়ালে কত জায়গায় কত ফুটোই করছে তার সংখ্যা নেই, কেবলই আলোর পথ নানা দিক দিয়েই খুলে দিচ্ছে। সত্তার এই বিদ্রোহমন্ত্রের সাধনায় মানুষ যতদূর এগিয়েছে এমন আর-কোনো জীব না। মানুষের মধ্যে যার বিদ্রোহশক্তি যত প্রবল, যত তুর্দমনীয়, ইতিহাসকে ততই সে যুগ হতে যুগান্তরে অধিকার করছে, শুধু সত্তার ব্যাপ্তি-দ্বারা নয়, সত্তার ঐশ্বৰ্য-দ্বারা । এই বিদ্রোহের সাধনা দুঃখের সাধনা ; দুঃখই হচ্ছে হাতি, দুঃখই হচ্ছে সমুদ্র । বীর্যের দপে এর পিঠে যারা চড়ল তারাই বাচল ; ভয়ে অভিভূত হয়ে এর তলায় যারা পড়েছে তারা মরেছে। আর, যারা একে এড়িয়ে সস্তায় ফললাভ করতে চায় তারা নকল ফলের २ › ግ