পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


(t সামনে সমুদ্রের অর্ধচন্দ্রাকার তটসীমা । অনেক দূর পর্যন্ত জল অগভীর, জলের রঙে মাটির আভাস, সে যেন ধরণীর গেরুয়া আঁচল এলিয়ে পড়েছে। ঢেউ নেই, সমস্ত দিন জলরাশি এগোয় আর পিছোয় অতি ধীর গমনে। অন্সর আসছে চুপিচুপি পিছন থেকে পৃথিবীর চোখ টিপে ধরবে বলে— সোনার রেখায় রেখায় কৌতুকের মুচকে-হাসি । , সামনে বা দিকে একদল নারকেলগাছ, সুদীর্ঘ গুড়ির উপর সিধে হয়ে দাড়াতে পারে নি, পরস্পরের দিকে তাদের হেলাহেলি । নিত্যদোলায়িত শাখায় শাখায় সূর্যের আলো ওরা ছিটিয়ে ছিটিয়ে দিচ্ছে, চঞ্চল ছেলেরা যেমন নদীর ঘাটে জল-ছোড়াছড়ি করে। সকালের আকাশে ওদের এই অবগাহনস্নান । এটা একজন চীনীয় ধনীর বাড়ি । আমরা তার অতিথি । প্রশস্ত বারান্দায় বেতের কেদারায় বসে আছি। সমুদ্রের দিক থেকে বুক ভরে বইছে পশ্চিমে হাওয়া । চেয়ে দেখছি, আকাশের কোণে কোণে দলভাঙা মেঘগুলি শ্রাবণের কালো উর্দি ছেড়ে ফেলেছে, এখন কিছুদিনের জন্যে সূর্যের আলোর সঙ্গে ওদের সন্ধি। আমার অস্পষ্ট ভাবনাগুলোর উপর ঝরে পড়ছে কম্পমান নারকেলপাতার ঝরঝর শব্দের বৃষ্টি, বালির উপর দিয়ে ভাটার সমুদ্রের পিছু-হটার শব্দ ওরই সঙ্গে একই মৃত্স্বরে মেলানো। ও দিকে পাশের ঘরে ধীরেন এসরাজ নিয়ে আপন মনে বাজিয়ে চলেছে— ভৈরো থেকে রামকেলি, রামকেলি থেকে ভৈরবী ; আস্তে আস্তে অকেজো মেঘের মতো খেয়ালের হাওয়ায় বদল হচ্ছে রাগিণীর আকৃতি । আজ সকালে মনটা যেন ভাটার সমুদ্র, তীরের দিক টানছে ૨8