পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

দুই বোন

৩৭

রইল না যে সে অপরাধী। মহৎ ব্রত তার, অথচ তার থেকে কথায় কথায় মন আশেপাশে চলে যায়, নিজেকে কেবলি লাঞ্ছিত করে। সামনেই দৃষ্টান্ত রয়েছে নীরদের; কী আশ্চর্য দৃঢ়তা, কী একাগ্র লক্ষ্য, সকল প্রকার আমোদ-আল্লাদের প্রতি কী কঠোর বিরুদ্ধতা। ঊর্মির টেবিলে গল্প কিংবা হালকা সাহিত্যের কোনো বই যদি দেখে তবে তখনি সেটা বাজেয়াপ্ত করে দেয়। একদিন বিকেলবেলায় উর্মির তদারক করতে এসে শুনলে সে গেছে ইংরেজি নাট্যশালায় সালিভ্যানের মিকাডো অপেরার বৈকালিক অভিনয় দেখবার জন্যে। দাদা থাকতে এবকম সুযোগ প্রায় বাদ যেত না। সেদিন নীরদ তাকে যথোচিত তিরস্কার করেছিল। অত্যন্ত গম্ভীরসুরে ইংরেজি ভাষায় বলেছিল, “দেখো, তোমার দাদার মৃত্যুকে সমস্ত জীবন দিয়ে সার্থক করবার ভার নিয়েছ তুমি। এরি মধ্যে কি তা ভুলতে আরম্ভ করেছ।”

 শুনে ঊর্মির অত্যন্ত পরিতাপ লাগল। ভাবলে, “এ মানুষটার কী অসাধারণ অন্তর্দৃষ্টি। শোকস্মৃতির প্রবলতা সত্যই তো কমে আসছে —আমি নিজে তা বুঝতে পারিনি। ধিক, এত চাপল্য আমার চরিত্রে।” সতর্ক