পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জাভা-যাত্রীর পত্র রাজা আমাদের ভাষাতেই বলে উঠলেন সমুদ্র ; আমাকে বিস্মিত ও আনন্দিত হতে দেখে আউড়ে গেলেন, ‘সমুদ্র, সাগর, অব্ধি, জলাঢ্য। তার পরে বললেন, সপ্তসমুদ্র, সপ্তপর্বত, সপ্তবন, সপ্ত-আকাশ ।’ তার পরে পর্বতের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন ‘অদ্রি’ ; তার পরে বলে গেলেন, ‘সুমেরু, হিমালয়, বিন্ধ্য, মলয়, ঋষ্যমূক । এক জায়গায় পাহাড়ের তলায় ছোটাে নদী বয়ে যাচ্ছিল, রাজা আউড়িয়ে গেলেন, ‘গঙ্গা, যমুনা, নর্মদা, গোদাবরী, কাবেরী, সরস্বতী। অামাদের ইতিহাসে একদিন ভারতবর্ষ অাপন ভৌগোলিক সত্তাকে বিশেষভাবে উপলব্ধি করেছিল ; তখন সে আপনার নদীপৰ্বতের ধ্যানের দ্বারা আপন ভূমূর্তিকে মনের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করে নিয়েছিল। তার তীর্থগুলি এমন করে বাধা হয়েছে— দক্ষিণে কন্যাকুমারী, উত্তরে মানসসরোবর, পশ্চিমসমুদ্রতীরে দ্বারকা, পূর্বসমুদ্রে গঙ্গাসংগম— যাতে করে তীর্থভ্রমণের দ্বারা ভারতবর্ষের সম্পূর্ণ রূপটিকে ভক্তির সঙ্গে মনের মধ্যে গভীরভাবে গ্রহণ করা যেতে পারে। ভারতবর্ষকে চেনবার এমন উপায় আর কিছু হতে পারে না। তখন পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করতে হত, সুতরাং তীর্থভ্রমণের দ্বারা কেবল যে ভারতবর্ষের ভূগোল জানা যেত তা নয়, তার নানাজাতীয় অধিবাসীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয় আপনিই হত । সেদিন ভারতবর্ষের আত্মোপলব্ধি একটা সত্যসাধনা ছিল ব'লেই তার আত্মপরিচয়ের পদ্ধতিও আপনিই এমন সত্য হয়ে উঠেছিল। যথার্থ শ্রদ্ধা কখনও ফাকি দিয়ে কাজ সারতে চায় না। অর্থাৎ, রাষ্ট্রসভার রঙ্গমঞ্চের উপর ক্ষণিক মিলনের অভিনয়কেই সে মিলন বলে নিজেকে ভোলাতে চায় না । সেদিন মিলনের সাধনা ছিল অকৃত্রিম নিষ্ঠার সাধনা ৷ সেদিনকার ভারতবর্ষের সেই আত্মমূর্তিধ্যান সমুদ্র পার হয়ে & So