পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দশম পত্র পূর্বমহাসাগরের এই সুদূর দ্বীপপ্রান্তে এমন করে স্থান পেয়েছিল যে, অাজ হাজার বছর পরেও সেই ধ্যানমন্ত্রের আবৃত্তি এই রাজার মুখে ভক্তির সুরে বেজে উঠল, এতে আমার মনে ভারী বিস্ময় লাগল। এই-সব ভৌগোলিক নামমাল এদের মনে আছে বলে নয়, কিন্তু যে প্রাচীন যুগে এই নামমালা এখানে উচ্চারিত হয়েছিল সেই যুগে এই উচ্চারণের কী গভীর অর্থ ছিল সেই কথা মনে ক’রে । সেদিনকার ভারতবর্ষ আপনার ঐক্যটিকে কত বড়ো আগ্রহের সঙ্গে জানছিল আর সেই জানাটিকে স্থায়ী করবার জন্যে, ব্যাপ্ত করবার জন্যে, কিরকম সহজ উপায় উদ্ভাবন করেছিল তা স্পষ্ট বোঝা গেল আজ এই দূর দ্বীপে এসে— যে দ্বীপকে ভারতবর্ষ ভুলে গিয়েছে। রাজা কিরকম উৎসাহের সঙ্গে হিমালয় বিন্ধ্যাচল গঙ্গা যমুনার নাম করলেন, তাতে কিরকম তার গর্ব বোধ হল! অথচ, এ ভূগোল বস্তুত তাদের নয় ; রাজা যুরোপীয় ভাষা জানেন না, झैनि আধুনিক স্কুলে-পড়া মানুষ নন ; সুতরাং পৃথিবীতে ভারতবর্ষ জায়গাটি-যে কোথায় এবং কিরকম সে সম্বন্ধে সম্ভবত তার অস্পষ্ট ধারণা— অন্তত বাহ্যত এ ভারতবর্ষের সঙ্গে তাদের কোনো ব্যবহারই নেই। তবুও হাজার বছর আগে এই নামগুলির সঙ্গে যে মুর মনে বাধা হয়েছিল সেই সুর আজও এ দেশের মনে বাজছে । সেই স্থরটি কত বড়ো খাটি স্থর ছিল তাই আমি ভাবছি। আমি কয়েক বছর আগে ভারতবিধাতার যে জয়গান রচনা করেছি তাতে ভারতের প্রদেশগুলির নাম গেথেছি-- বিন্ধ্য হিমাচল যমুনা গঙ্গার নামও আছে। কিন্তু, আজ আমার মনে হচ্ছে, ভারতবর্ষের সমস্ত প্রদেশের ও সমুদ্রপর্বতের নামগুলি ছন্দে গেথে কেবলমাত্র একটি দেশপরিচয় গান আমাদের লোকের মনে গেথে দেওয়া ভালো । দেশাত্মবোধ বলে একটা শব্দ আজকাল আমরা কথায় কথায় ব্যবহার করে ¢ ግ