পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দশম পত্র মুসলমান দোকানদারকে তলব দিয়ে আনালেন। কী আমার প্রয়োজন, কিরকম আহারাদির ব্যবস্থা আমার জন্তে করতে হবে, ইত্যাদি প্রশ্ন । আমি রাজাকে জানাতে বললুম, তিনি যদি আমাকে ত্যাগ করে বিশ্রাম করতে যান তা হলেই আমি সব চেয়ে খুশি হব। তার পরদিনে রাজবাড়ির কয়েকজন ব্রাহ্মণপণ্ডিত তালপাতার পুথিপত্র নিয়ে উপস্থিত। একটি পুথি মহাভারতের ভীষ্মপর্ব। এইখানকার অক্ষরেই লেখা ; উপরের পংক্তি সংস্কৃত ভাষায়, নীচের পংক্তিতে দেশী ভাষায় তারই অর্থব্যাখ্যা । কাগজের একটি পুথিতে সংস্কৃত শ্লোক লেখা । সেই শ্লোক রাজা পড়ে যেতে লাগলেন ; উচ্চারণের বিকৃতি থেকে বহু কষ্টে তাদের উদ্ধার করবার চেষ্টা করা গেল। সমস্তটা যোগতত্ত্বের উপদেশ। চিত্তবুদ্ধি, ত্রি-অক্ষরাত্মক ওঁ, চন্দ্রবিন্দু এবং অন্য সমস্ত শব্দ ও ভাবনা বর্জন করে শুদ্ধচৈতন্যযোগে মুখমাপুয়াং– এই হচ্ছে সাধনা। আমি রাজাকে আশ্বাস দিলেম যে, আমরা এখানে যে সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত পাঠিয়ে দেব, তিনি এখানকার গ্রন্থগুলি থেকে বিকৃত ও বিস্মৃত পাঠ উদ্ধার করে তার অর্থব্যাখ্যা করে দিতে পারবেন। এ দিকে আমার শরীর অত্যন্ত ক্লান্ত হতে চলল। প্রতি মুহুর্তে বুঝতে পারলুম, আমার শক্তিতে কুলোবে না। সৌভাগ্যক্রমে সুনীতি আমাদের সঙ্গে আছেন ; তার অশ্রান্ত উদ্যম, অদম্য উৎসাহ । তিনি ধুতি প’রে, কোমরে পট্টবস্ত্র জড়িয়ে, পেদণ্ড’ অর্থাৎ এখানকার ব্রাহ্মণদের সঙ্গে বসে গেলেন । র্তার সঙ্গে আমাদের দেশের পূজোপকরণ ছিল ; পূজাপদ্ধতি তাদের দেখিয়ে দিলেন। আলাপআলোচনায় সকলকেই তিনি আগ্রহান্বিত করে তুলেছেন। যখন দেখা গেল, আমার শরীর আর সইতে পারছে না, তখন (tò