পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
১১২
দুই বোন

অাসে তা নিয়ে ওর মনে আশঙ্কা থাকে না॥ লাইন টানা আঁকি কষার কাজে তার সঙ্গী জুটেছে। উৰ্মিকে পাশে নিয়ে বুঝিয়ে বুঝিয়ে কাজ এগোয়। খুব দ্ৰুত বেগে এগোয় না বটে, কিন্তু সময়ের দীৰ্ঘতাকে সাৰ্থক মনে হয়। এইখানটাতে শমিলাকে রীতিমতো ধাক্কা দেয়। উৰ্মির ছেলেমানুষিও সে বোঝে, তার গৃহিণীপনার ক্ৰটিও সস্নেহে সহ্য করে, কিন্তু ব্যবসায়ের ক্ষেত্ৰে স্বামীর সঙ্গে স্ত্ৰীবুদ্ধির দূরত্বকে স্বয়ং অনিবাৰ্য ব’লে মেনে নিয়ে ছিল সেখানে উৰ্মির অবাধে গতিবিধি ওর একটুও ভালো লাগে না। ওটা নিতান্তই সম্পধা। অাপন অাপন সীমা মেনে চলাকেই গীতা বলেন স্বধৰ্ম। মনে মনে অত্যন্ত অধীর হয়েই একদিন ওকে জিজ্ঞাসা করলে, “আচ্ছা উৰ্মি, তোর কি ঐসব আঁকা জোখা আঁাক কষা ট্ৰেস করা সত্যই ভালো লাগে।” “অামার ভারি ভালো লাগে দিদি।” শমিলা অবিশ্বাসের সুরে বললে, “হঁঃ, ভালো লাগে। ওকে খুশি করবার জন্যেই দেখাস যেন ভালো লাগে।” না হয় তাই হোলো। খাওয়ানোপরানো সেবাযত্নে