পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
দুই বোন

ভূষণের ভাষা প্ৰসাধনের ভাষা নয়, শুভসাধনের ভাষা।

 স্বামীর জীবনলোকে এমন কোনো প্ৰত্যন্তদেশ নেই যেখানে তার সাম্ৰাজ্যের প্রভাব শিথিল। শ্রীর অতি লালনের আওতায় স্বামীর মন হয়ে পড়েছে অসাবধান। ফাউণ্টেন কলমটা সামান্য দুৰ্যোগে টেবিলের কোনো অনতিলক্ষ্য অংশে ক্ষণকালের জন্যে অগোচর হোলে সেটা। পুনরাবিষ্কারের ভার স্ত্ৰীর পরে। স্নানে যাবার পূর্বে হাতঘড়িটা কোথায় ফেলেছে শশাঙ্কর হঠাৎ সেটা, মনে পড়ে না, শ্রীর সেটা নিশ্চিত চোখে পড়ে। ভিন্ন রঙের দু-জোড়া মোজার এক-এক পাটি এক-এক পায়ে পরে বাইরে যাবার জন্যে যখন সে প্ৰস্তুত, স্ত্ৰী এসে তার প্ৰমাদ সংশোধন করে দেয়। বাংলা মাসের সঙ্গে ইংরেজি মাসের তারিখ জোড়া দিয়ে বন্ধুদের নিমন্ত্ৰণ করে, তার পরে অকালে অপ্ৰত্যাশিত অতিথিসমাগমের অাকস্মিক দায় পড়ে ঐীর উপর। শশাঙ্ক নিশ্চয় জানে দিনযাত্ৰায় কোথাও ক্ৰটি ঘটলেই শ্রীর হাতে তার সংস্কার হবেই, তাই ক্ৰটি ঘটানোই তার স্বভাব হয়ে পড়েছে। স্ত্ৰী সস্নেহ তিরস্কারে বলে, “অার তো পারিনে। তোমার কি কিছুতেই শিক্ষা হবে না।” যদি শিক্ষা হোত তবে "