পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
১১২
দুই বোন

বটনা হয়েছে সেটা তোমাৰ কাছে গোপন ক বা অকৰ্তব্য মনে কর। অামার পায়ে একজোড়া। তালতলী চটি অনেকেই লক্ষ্য করেছে। কিন্তু তার চেযে লক্ষ্য করেছে তার ছিদ্ৰভেদ ক’রে অামার চরণনথরপংক্তি মেঘমুক্ত চন্দ্ৰমালার মতো। ( ভারত চন্দের অন্নদামঙ্গল দ্রষ্টব্য। উপমার যাথাৰ্থ্য সম্বন্ধে সন্দেহ ঘটলে তোমার দিদির কাছে মীমাংসনীয়।) আজ সকালে আমার অাপিসের বৃন্দাবন নন্দী যখন আমার সপাদুক চরণ স্পৰ্শ ক’রে প্রণাম করলে তখন অামাৰ পদমৰ্যাদায় যে বিদীৰ্ণতা প্ৰকাশ পেয়েছে তারি অগেীরব মনে আন্দোলিত তোলো। সেবককে জিজ্ঞাসা করলেম, “মহেশ, আমাৰ সেই অন্য নৃতন চটি জোড়াটা গতিলাভ করেছে অন্য কোন অনধিকারীর শ্ৰীচৰণে।” সে মাথা চলকিসে বললে, “ও-বাডির উমি মাসিদের সঙ্গে আপনি যখন দাজিলিঙ যান সেই সময়ে চটিজোডাটাও গিয়েছিল। আপনি ফিবে এসেছেন সেই সঙ্গে ফিরে এসেছে তার একপাটি, অার এক পাটি—” তার মুখ লাল হয়ে উঠল। আমি এক ধমক দিয়ে বললুম, “বাস, চুপ ” সেখানে অনেক লোক ছিল। চটিজুতো -হরণ হীনকায। কিন্তু মানুষের মন দুৰ্বল, লোভ দুৰ্দম, এমন কাজ করে ফেলে, ঈশ্বর বোধ করি ক্ষমা করেন। তবু অপহরণ কাজে বুদ্ধির পরিচয় থাকলে দুফাৰ্যের প্লানি অনেকটা কাটে। কিন্তু একপাটি চটি! ধিক!!!