পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
১১২
দুই বোন

যে এ-কাজ করেছে, যথাসাধ্য তাবে নাম অামি উহ্য রেখেছি। সে যদি তা স্ব ভাবসিদ্ধ মুখ্যতা সঙ্গে এই নিয়ে অনৰ্থক চেঁচামেচি করে তাহলে কথাটা ঘাটাঘাটি হয়ে যাবে। চটি নিযে চটচটি সেইখানেই খাটে যেখানে মান খাটি। মহেশে মতো নিন্দুকে মুখবন্ধ এখনি করতে পারো একজোড়া শিল্পকাখচিত চটির সাহায্যে। যেমন তার অাম্পধ॥ পায়ের মাপ এই সঙ্গে পাঠাচ্ছি।” চিঠিখানা পেয়ে উমি স্মিতমুখে পশমের জুতো বুনতে বসেছিল কিন্তু শেষ করেনি। পশমের কাজে আর তার উৎসাহ ছিল না। আজ এটা আবিষ্কার ক’রে স্থির করলে এই অসমাপ্ত জুতোটাই দেবে শশাঙ্ককে সেই দাৰ্জিলিঙ যাত্রার সাৎসরিক দিনে। সে-দিন অার কয়েক সপ্তাহ পরেই আসছে। গভীর একটা দীৰ্ঘনিশ্বাস পড়ল— হায় রে কোথায় সেই হাস্যোজল অাকাশে হালকাপাখায় উড়ে-যাওয়া দিনগুলি! এখন থেকে সামনে প্রসারিত নিরবকাশ কৰ্তব্যকঠোর মর জীবন। অাজ ২৬শে ফান্তন। হোলিখেলার দিন। মফস্বলের কাজে এ-খেলায় শশাঙ্কের সময় ছিল না, এ-দিনের কথা তারা ভুলেই গেছে। উমি আজ তার শয্যাগত দিদির পায়ে অাবিরের টিপ দিয়ে প্ৰণাম করেছে। তারপরে