বুঝিতে পারিলেন না। আমার মুখের দিকে চাহিয়া কিছুক্ষণ পরে বলিলেন, “বড় বেশী নয়। আপনার কথায় আমার যেন মনে পড়িতেছে, বেহারীগিরি একবার কেদারের দিকে চাহিয়া ছিলেন। কেদারনাথ কি যেন সঙ্কেত করায় বেহারী সত্বর সেখান হইতে চলিয়া গেলেন।”
আমি ঈষৎ হাসিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, “আপনার কোনরূপ সন্দেহ হইল না? আপনিও জানিতেন যে কেদারনাথের সহিত বেহারীগিরির সম্ভাব নাই। তবুও যখন আপনি কেদারনাথকে সঙ্কেত করিতে দেখিলেন, তখন আপনার কি কিছুই মনে হইল না?”
হৃষীকেশ আমার কথায় নিতান্ত লজ্জিত হইলেন। কোনরূপ উত্তর কিন্তু প্রতিবাদ করিলেন না। তাঁহার মলিন মুখ দেখিয়া আমি তাঁহাকে আর কোন কথা না বলিয়া বলদেবের দিকে ফিরিয়া বলিলাম, “আমি যেরূপ সন্দেহ করিয়াছিলাম, ঠিক সেইরূপই হইয়াছে। আমার বড় ভাল বোধ হইতেছে না। যখন বেহারীর অতীব শত্রুর সহিত তাঁহাকে শেষ দেখিতে পাওয়া গিয়াছিল, তখন বেহারীর অদৃষ্টে কি হইয়াছে বলিতে পারি না। এখন আপনাদের কাহারও সেই কেদারনাথের বাড়ী জানা আছে কি?”
বলদেব আমার কথায় দুঃখিত হইলেন। তিনি বিষয় বদনে উত্তর করিলেন, “আমি তাঁহার পূর্ব্বের বাসস্থান জানি। কিন্তু সেটা তাঁহার নিজের বাড়ী নয়। যদি তিনি ইতিমধ্যে আর কোথাও গিয়া থাকেন তাহা হইলে আমি সে ঠিকানা জানি না।”
হৃষীকেশ বলিলেন, “আমি তাঁহার কোন বাড়ীই জানি না।